একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিলেও তাদের বড় বাধা ছিল এ দেশীয় কিছু রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। আর এই বাহিনী গুলো শুধু পাকিস্তানি বাহিনীকে পথঘাট ও মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিয়েই সহযোগিতা করেনি, কখনও সাধারণ বাঙালি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তুলে নিয়েছে অস্ত্র; চালিয়েছে নৃশংস গণহত্যা, নারী উপর চালিয়েছে ধর্ষণ ও নির্যাতন। এমনই এক লড়াইয়ে একাত্তরে রাজাকার বাহিনীর গুলিতে বিদ্ধ হন ব্রজেন্দ্র দাস।

আর এই গুলির চিহ্ন নিয়েই মঙ্গলবার ৮ মার্চ ভোরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের ব্রজেন্দ্র দাস।


মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক হাসান মোরশেদ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর । সেদিন স্থানীয় কয়েকজন রাজাকারের নেতৃত্বে তান্ডব চালানো হয় নদীর দুই তীরের গ্রামে। হিন্দু অধ্যুষিত পেরুয়া গ্রামের সব পুরুষদের ধরে শ্যামার চর বাজারের সুরমা নদীর তীরে এনে লাইন ধরিয়ে গুলি করে। শ্যামার চরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মুসলমান পরিবারগুলোও আক্রান্ত হয় তাদের দ্বারা, নারীদের তুলে নিয়ে যায় বাঙ্কারে। সেদিনের লাইনে ছিলেন নৌকার মাঝি ব্রজেন্দ্র দাসও। ৩৬ জন মারা গেলেও পেটে গুলিবিদ্ধ ব্রজেন্দ্র ভেসে গিয়েছিলেন নদীতে। নদী থেকে তাঁকে উদ্ধার করার অপরাধে খুন হয়েছিলেন গুঞ্জর আলী।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনে শিকার হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী কুলসুম বিবি ও ব্রজেন্দ্র দাসের স্ত্রী প্রমীলা দাসও। জমিলা বেগম, মুক্তাবান বিবিসহ আরো বহু নারী সেদিন নির্যাতিত হয়েছিলেন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এইচপি/এসডি-৩৯