সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলের আর মাত্র তিন দিন বাকি। কাউন্সিলে উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে সিলেট জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কাউন্সিল ঘিরে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের মাঝেও বিরাজ করছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা। কিন্তু কাউন্সিল ঘনিয়ে আসার পর দুইদফায় কেন্দ্রের চার নির্দেশনায় প্রার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার। শেষ সময়ে কেন্দ্রের আরোপিত নির্দেশনার কারণে ১০ প্রার্থী কাউন্সিলে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার সুযোগ হারিয়েছেন। প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত নেতারা চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রের দ্বৈতনীতি বলে দাবি করেছেন। এ নিয়ে তারা কেন্দ্রিয় নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ২১ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শুরুতে কমিটির সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রত্যক্ষ ভোট হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জেলার আওতাধীন ১৩টি উপজেলা ও ৫টি পৌর কমিটির শীর্ষ ৫ পদবীধারী নেতাকে কাউন্সিলে ভোটার করা হয়। সেই আলোকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের প্রস্তুতিও শুরু করেন। ভোটারদের কাছে প্রচারনাও চালান। কিন্তু হঠাৎ করে কেন্দ্র থেকে প্রার্থীতার ব্যাপারে তিনটি শর্তারোপ করা হয়। শর্তগুলো হচ্ছে- উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা কেউ জেলার কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের পদবীধারী নেতাদেরও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। একই সাথে মহানগর বিএনপির আহŸায়ক কমিটির সদস্যদেরও জেলার কাউন্সিলে প্রার্থী না হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই নির্দেশের পর এতোদিন প্রচারনা চালিয়ে আসা অনেক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে।
এদিকে, শুরুতে কাউন্সিলে উপজেলা ও পৌর শাখার শীর্ষ পাঁচ পদবীধারী নেতাকে ভোটার করা হলেও গত বুধবার রাতে নতুন নির্দেশনা আসে কেন্দ্র থেকে। জেলা বিএনপির সভায় ভোটার নিয়ে মতদ্বৈততা দেখা দিলে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে ফোনে কথা বলেন। এরপর প্রতিটি উপজেলা ও পৌর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির সবাইকে কাউন্সিলে ভোটার করা হয়। ফলে ১৮ ইউনিটের ৯০ জন ভোটারের স্থলে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮১৮ জনে। এছাড়া জেলার শীর্ষ পাঁচ পদের পরিবর্তে তিন পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন তিন পদে ১৩ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহŸায়ক আবদুল আহাদ খান জামাল, জেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটির সদস্য আবদুল মান্নান, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রিয় নেতা কামরুল হাসান চৌধুরী শাহীন ও সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামাল। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যে ৪ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা হলেন- মহানগর যুবদলের আহŸায়ক কমিটির সদস্য লোকমান আহমদ, জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহŸায়ক শাকিল মোর্শেদ ও জেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটির সদস্য শামীম আহমদ। এর মধ্যে শাকিল মুর্শেদ স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে পদত্যাগ করে প্রার্থী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুল আহাদ খান জামাল জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ না করেই প্রার্থী হয়েছেন।
অঙ্গ সংগঠনের পদে থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না- এই নিয়মের কারণে মনোনয়ন দাখিল করা কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন বাতিল হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রের নির্দেশনা ও শেষ সময়ে এসে পাঁচ পদের স্থলে তিন পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্তের কারণে আরও কয়েকজন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী রণে ভঙ্গ দিতে হয়েছে।
তাদের মধ্যে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন- সাবেক সহ সভাপতি আশিক চৌধুরী, সাবেক সহ সভাপতি শেখ মো. মকন মিয়া, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন না হওয়ায় প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন- সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন রশিদ মামুন, ময়নুল হক ও জেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুল হক চৌধুরী। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন- সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম। কিন্তু কেন্দ্রিয় নির্দেশনার কারণে তিনিও প্রার্থী হতে পারছেন না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




