সিলেটের বিশ্বনাথ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সড়কের সংস্কার কাজ চলছে শম্বুকগতিতে। প্রায় ৩ বছর ধরে ‘মেসার্স সুহেল এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির উদাসীনতার কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন দুই উপজেলার লাখ লাখ যাত্রীসাধারণ।

জীবনের চরম ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাওয়া পরিবহন শ্রমিকরা এবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। সোমবার (২১ মার্চ) সকাল থেকে বিশ্বনাথ-জগনন্নাথপুর সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। যদিও এপ্রিল মাসের মধ্যে সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন এলজিইডির সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী।


প্রায় তিন বছর ধরে ঠিকাদারের মনগড়া ও অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে এই জনপদের জনসাধারণ অতিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনই ঠিকাদারের খোঁড়া অংশে মালবাহী-যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে গিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। একাধিকবার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আঁতাত করে ঠিকাদার সময় বাড়িয়ে ইচ্ছামতো কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যস্ত এই সড়কের মাত্র এক কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই কাজ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তাও তিনবার সড়ক বন্ধ করে এই আরসিসি ঢালাই কাজ করেছে। আর এর প্রতিবাদে জনসাধারণের পাশাপাশি ফুঁসে ওঠেছেন সড়কের পরিবহণ শ্রমিকরা।

দ্রুত সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করার দাবিতে ও অন্তহীন ভোগান্তির প্রতিবাদে সড়কের উপর তাদের মিনিবাস এলোপাতাড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত পীরের বাজার ও মিয়ারবাজারে ৬ঘন্টা তারা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে নেতৃত্ব দেন বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ রামপাশা সড়কের বাস মিনিবাস শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ফজর আলী, জগন্নাথপুর বাস মিনিবাস শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি  গোলাম রব্বানী, সসহ সভাপতি সঞ্জু দেব, তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়াসহ আরও অনেকে।

এদিকে সড়কে অবরোধ চলাকালে বরযাত্রীর গাড়ী, যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও জনসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হন । এসময় সিলেট থেকে জগন্নাথপুর যাওয়ার পথে যানজটে আটকা পড়েন জগন্নাথপুর পৌর সভার মেয়র আখতারুজ্জামান আকতার। এসময় মেয়র শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলেন। শ্রমিক নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর মেয়র জেলা প্রকৌশলীকে বলেন উপস্থিত শ্রমিক নেতাদের সাথে সমন্বয় করে একটু কথা বলেন। কিন্তু জেলা প্রকৌশলী মেয়রের কথা রাখেন নি। পরে মেয়র তার গাড়ি যানজটে রেখেই মোটর সাইকেলে চলে যান। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী এপ্রিল মাসের ভেতরে কাজ শেষ করার আশ^াস দেন।

শ্রমিক নেতা ফজর আলী বলেন, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আঁতাত করে সাব-ঠিকাদার সুহেল খান তার ইচ্ছেমতো সময় নিয়ে এলাকার জনসাধারণকে ভোগান্তি দিয়ে ধীরগতিতে সংস্কার কাজ করছে। দ্রæত এই সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করা না হলে আগামী ২৭ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে।

তবে ঠিকাদার সুহেল খানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জানা যায় বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ রেখেছেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিবিও/পিডি