সবুজ রঙের কাঁচা ধান পেকে সোনালী আভা ধারণ করতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে। কিন্তু এর মধ্যেই  ভারতের পাহাড়ি ঢলে কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ‘সোনার ধান’ ডুবতে বসেছে। এতে চরম উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন কাটছে হওর এলাকার কৃষকের। এমন পরিস্থিতে ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাঁধ মেরামতের কাজে দিনরাত স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে কৃষকেরা যখন হাঁপিয়ে উঠছেন, ঠিক তখনি  হাওররক্ষা বাধের কাজের দায়িত্বে থাকা এক পিআইসির সদস্য বাঁধে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার শিকার হন।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের হুরামন্দির হাওরে একটি বাঁধের ফাটল অংশে মেরামত কাজ করতে গিয়ে প্রকল্প কমিটির (পিআইসি) সেক্রেটারি জনতার হাতে বেধড়ক মারপিটের শিকার হন ।



স্থানীয়রা জানান বুধবার সকালে হুরামন্দির হাওরের ৫৫নং পিআইসির বাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় আশপাশের চার গ্রামের মানুষ মসজিদে মাইকিং করে মেরামতের কাজে লিপ্ত হয়। এসময় ঐ পি আই সির সেক্রেটারি চানপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে শামসুল ইসলাম বাঁধের মেরামত কাজ করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে বেধড়ক মারপিট করে।

পরে আহত শামসুল ইসলামকে উদ্ধার করে তার আত্মীয়রা দিরাই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।


এ বিষয়ে শামসুল বলেন, ‘রাতে বাঁধে কিছু জায়গায় ফাটল ধরে, সকালে আমরা মাইকিং করে মেরামতের কাজে যাই। এ সময় লোকজন আমাদেরকে বলে টাকা দিয়ে শ্রমিক নিয়ে মেরামত কাজ করতে। তখন আমি বলেছিলাম মাত্র দুইটি বিল পেয়েছি বর্তমানে আমাদের হাতে কোন টাকা নেই। এসময় আমার উপর হামলা চালানো হয় ‘


হামলা ও মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করে জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাভলু বলেন, ‘হুরামন্দির হাওরের একটি বাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ মেরামতের কাজে জড়ো হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা পিআইসির সেক্রেটারি শামসুলকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই আহত শামসুলকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় তার স্বজনরা। বাঁধের ফাটল অংশ মেরামতের কাজে আছেন এলাকার মানুষজন।’


সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি