সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভাধীন বাজার ব্রীজ থেকে সেনগুপ্ত ভবন পর্যন্ত নির্মাণাধীন আর, সিসি রাস্তা নির্মান প্রকল্পের সঠিক ও বাস্তব চিত্র উপস্থাপনে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌর মেয়র বিশ্বজিৎ রায়।

রবিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে দিরাই পৌরসভার মেয়রের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কর হয়।


সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আপনারা জানেন যে বিগত ১৩ এপ্রিল দিরাই পৌরসভাধীন বাজার ব্রীজ থেকে সেনগুপ্ত ভবন পর্যন্ত আর, সিসি রাস্তা নির্মান (০.০০মি:হইতে ২৩৭.৮০ মি) প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি দরপত্রের কার্যাদেশে অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রায়হান এন্টারপ্রাইজ, প্রো. ফরহাদ করিম, চন্ডিপুর, দিরাই পৌরসভা, সুনামগঞ্জ রেডিমিক্স দ্বারা সংশ্লিষ্ট রাস্কার কাজ শুরু করেন। প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থায় কাজের গুনগত মান নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি সমাজে বিভ্রান্ত ছড়ানোর লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালায়, যা মোটেও কাম্য নয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের মাধ্যমে পৌরবাসীকে প্রকল্পের সঠিক ও বাস্তব চিত্র উপস্থাপনের জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজটি আংশিক সম্পন্ন হলে উপরের পৃষ্টে চিরফাটা পরিলক্ষিত হয়। যা প্রকৌশল ভাষায় প্লাষ্টিক সিংক্রেজ বলা হয়। যেকোন ঢালাই কাজে এরকম ছোট বড় প্লাষ্টিক সিংক্রেজ কমবেশী ঘটে থাকে, যাহার কারনে মূল স্টাকচারে কোন ক্ষতির প্রভাব পড়ে না। তারপরও অধিকতর সর্তকতাকল্পে উপরোক্ত সমস্যার জন্য মূল স্টাকচারে যাহাতে ভবিষ্যতে কোন ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে সেজন্য প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী রাস্তায় ব্যবহৃত কনক্রিট হতে তৈরীকৃত সিলিন্ডার ও কোর কাটিং এর মাধ্যমে ল্যাবটরির প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্য গ্রহন করা হবে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে দিরাই পৌরসভার সচিব (অ.দা) সহকারী প্রকৌশলী হেলাল আবেদীন বলেন, “আমাদের দায়িত্বের কোন অবহেলা নাই। দেখেন লোকমুখে যা বলা হয় তা সত্য নাও হতে পারে। আমাদের কাজ চলমান আছে যদি কেউ মনে করে আমাদের কাজে গাফলতি আছে তাহলে সচেতন কয়েকজন আসেন দেখেন যে মালামাল গুলোর স্তূপ হতে কমান্ড দেওয়া হয় তখন সেই মালামাল গুলো বেল্টের সাহায্যে মেশিনের ভিতর গিয়ে মিছকার হয়। সচেতন লোক গুলো দেখলে বুঝতে পারবে আমরা দায়িত্বে কোন অবহেলা করছি কিনা।”

হেলাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের ডিজাইন ফেসিফিকেশন অনুসারে ঠিক আছে। লোকমুখে অনেক কথাই বলা হয় কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন যেহেতু আমাদের কাজ চলমান রয়েছে তাই যে সব পাথর দিয়ে কাজ হচ্ছে তা আপনারা দেখে আসতে পারেন।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্যানেল মেয়র লিটন রায়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্য্য, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফ আহমদ, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ রেজাউল করিম,৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুয়েল মিয়াসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারীবৃন্দ।

এর আগে রাস্তাটির ঢালাইয়ের কাজ করলে কয়েক ঘন্টাপর স্থানে স্থানে ফাটল দেখা দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাস্তা নির্মাণ কাজে নিম্নমানের পাথর, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ এনে পোস্ট করে। যা ভাইরাল হতে থাকে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এইচপি/এসডি-৩২