জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাফফিল করে সিলেটে বড় চমক দেখিয়েছে সিলেট জেলা বিএনপি। কাউন্সিলের মাত্র ২০ দিনের মাথায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন আয়োজনে নেতাকর্মীদের প্রশংসায় ভাসছেন জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ। এমনকি- সদ্য গত হওয়া কাউন্সিলের যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের বলয়ের নেতাকর্মীরাও নতুন নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
গত ২৯ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে তৃণমূলের গোপন ব্যালটে সভাপতি নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিতন হন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শামিম আহমদ নির্বাচিত হন। তিন সদস্যের এই কমিটি শুরু থেকেই সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে অনেকটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। কারণ- তারা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সিলেটে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি গড়ার জন্য সব মতের সিনিয়র সারির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।
জেলা বিএনপির শীর্ষ এই তিন নেতার পদক্ষেপে তৃণমূল নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত বলে জানা গেছে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদী রাজনীতির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব এমন ঐক্যনীতি অবলম্বন করছেন।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) সিলেট জেলা বিএনপির আড়ম্বরপূর্ণ এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ সুরমার ‘কুশিয়ারা কনভেনশন’ হলে। সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীদের ইফতার আয়োজন করলেও সেখানে প্রায় ৮ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। চেয়ারে বসে ইফতার খাওয়াতে না পারলেও আগতদের দেয়া হয় ইফতারের প্যাকেট।
বিকেল ৪টায় ওই হলে গিয়ে দেখা যায়- পা ফেলার মতো জায়গা নেই। ইফতারে শুধু বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী নয়, উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সিলেটে এর আগে এত বড় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিল। এর পরে জেলা কিংবা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এত বড় আয়োজন হয়নি। সোমবারের এই ইফতার মাহফিলের স্ট্যাজে ছিল না গতানুগতিক কোনো ব্যানার। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি দেখানো হয়েছে বড় পর্দায়। পুরো দৃশ্য দেখার জন্য হলের ভেতর ছাড়াও বাহিরেও ছিল বড় পর্দার ব্যবস্থা। আর নেতাকর্মীদের বড় চমক ছিলো- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য।
দলের নেতাকর্মীরা এখন জেলা বিএনপির সভাপতিকে ‘ডায়নামিক লিডার’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ঢাকার রাজনীতি করতেন। সিলেটের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অনেকটাই অপরিচিত। তার যে সাংগঠনিক এত দক্ষতা তা অনেককেই এখন ভাবিয়ে তুলছে।
আর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী সম্পর্কে দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য- তিনি একজন দক্ষ সাংগঠনিক নেতা। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, বিএনপির গত কমিটিতে তিনি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। ‘স্মার্ট’ নেতা হিসেবেও দলের নেতাকর্মীরা তাকে অভিহিত করেন।
এছাড়া সোমবারের ইফতার মাহফিলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আহমদের ইফতার মাহফিলে দেয়া বক্তব্য নেতাকর্মীদের নজর কেড়েছে।
অপরদিকে, সোমবার এক প্লাটফর্মে মিলিত হন সিলেট বিএনপির সকল বলয়ের নেতাকর্মী। এটিকেও জেলা বিএনপির একটি 'বড় সাফল্য' বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির এই ইফতার প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটভিউ-কে বলেন, আধুনিকতার যুগে এমন অনুষ্ঠানই দেখতে চান দেশ কিংবা দেশের বাহিরে অবস্থানরত বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসীরা। এমন আয়োজনে নেতাকর্মীরা যেমন উজ্জীবিত হন- তেমনি দলের আন্দোলন-কার্যক্রম আরো সহজেই বেগবান করা যায় এমন আয়োজনের মাধ্যমে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জুনেদ/ডালিম/এসডি-২৭




