সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে গেল ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব শুত্রুতার জের ধরে দুই প্রার্থীর পক্ষের লোকজনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঈদের আগের দিন এক পক্ষের একজন এবং ঈদের পরের দিন অপরপক্ষের আরেক নারী খুন হয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ বলছে ঘটনার স্থলে পুলিশের টহল জোরদার থাকায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংঘর্ষে নিহতরা হলেন- উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে ফরিদ মিয়া (২৫) এবং একই গ্রামের উমেদ আলীর স্ত্রী অরুনা খাতুন (৪৬)।
এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুইটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার রাতে নিহতের ভাই কামাল হোসেন বাদি হয়ে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং অপরপক্ষের আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে বুধবার রাতে ৪০ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আমির হোসেন, ইসমাইল, মন্নাফ মিয়া, দুলাল মিয়া ও নাসির উদ্দিন।
জানা যায়, গত ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেন উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের নবী হোসেন। তার পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেন রশিদ মিয়া ও রজব আলীর লোকজন এবং অপর পক্ষ আবুল বাদশার পক্ষে কাজ করেন নিহত ফরিদ মিয়ার লোকজন। এরই জের ধরে আবুল বাদশা ও নবী হোসেনের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের আগের দিন সোমবার বিকাল ৪ টার দিকে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান নিহত ফরিদ মিয়া। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দু'পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ফরিদ মিয়া গুরুতর আহত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে নেয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরল করেন।
অপরদিকে মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গা ঢাকা দেয় নবী হোসেনের লোকজন। এ সুযোগে আবুল বাদশার লোকজন নবী হোসেনে লোকজনের বাড়ীতে গিয়ে হামলা, লুটপাঠ ও ভাংচুর চালায়। এসময় অরুনা খাতুন নামে এক নারী বাধা দিতে এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষের লোকজনের ছুলফির আঘাতে মারাত্বক আহত হন তিনি। পরে তাকে আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তিনি মারা যান।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, রসুলপুর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইপক্ষের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় দুইটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / রাজ্জাক / ডি.আর




