সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নে একটি মাত্র বেড়িবাঁধের কারণে শতাধিক কৃষকের ঘরে উঠলো কয়েক লাখ টাকার বোরো ধান। চলতি বোরো মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতিটি হাওরে রূপায়িত বোরো ধান তলিয়ে যায়। ফলে উপজেলার পূর্ব জাফলং, পূর্ব আলীরগাঁও, পশ্চিম আলীরগাঁও, রুস্তুমপুর, লেঙ্গুড়া, ডৌবাড়ী, নন্দীরগাঁও ও তোয়াকুল ইউনিয়নের সবকটি হাওরে রূপায়িত বোরো ধান কৃষকেরা কাটতে পারেনি।
অপর দিকে তোয়াকুল ইউনিয়নের পূর্ব পেকেরখাল (লক্ষীনগর) গ্রামবাসী তাদের এলাকায় রূপায়িত বোরো ধান পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষার জন্য পূর্ব পেকেরখাল মৌজার সরকারি ১ নং খাস খতিয়ানের ১ নং দাগ ও জেএল সাবেক ১৪৯ বর্তমান বিএস ১২৭ এ একটি ফসল রক্ষা নির্মাণ করেন। এ বাঁধটি নির্মাণের ফলে প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার কয়েক লাখ টাকা মূল্যের বোরো ধান ঘরে তুলেছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আব্দুল খালিক, সেলিম আহমদ, মুজিবুর রহমান, মঈন উদ্দিন, আব্দুল করিম, কালা মিয়া, আয়াত উল্লাহসহ অনেকেই জানান, প্রায় প্রতিবছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় ভারি বর্ষণে আমাদের হাওরে রূপায়িত ধান তলিয়ে যায়। এমনিতেই আমরা হাওরে বসবাস করি নানা সমস্যায় জর্জরিত হই। তার মধ্যে আমাদের রূপায়িত ধান বন্যায় নিয়ে গেলে আমরা সন্তানাদি নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করি। তাই আমরা গ্রামবাসী বিভিন্ন সভা করে বোরো ধান রক্ষায় একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই। এই বাঁধটি নির্মাণের ফলে আমাদের প্রায় ৩ হেক্টর জমির বোরো ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। আমরা গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে এ উদ্যোগ নেওয়ায় সহ্য হয়নি আমাদের পার্শ্ববর্তী পূর্ব পেকেরখাল (নয়াহাটি) গ্রামের একটি কুচক্রী মহলের।
তাদের মধ্যে মারুফ আহমদ নামের জনৈক ব্যক্তি বাদী হয়ে সিলেটের চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেটের আদালতে পূর্ব পেকেরখাল লক্ষীনগর গ্রামের নিন্মলিখিত ব্যাক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- আব্দুল খালিক, সেলিম আহমদ, মুজিবুর রহমান, মঈন উদ্দিন, আব্দুল করিম, কালা মিয়া, আয়াত উল্লাহ, কুতুব আলী, আহমদ আলী, আব্দুল হাসিম
আব্দুল খালিক, রবু মিয়া ও জয়নাল।
অসহায় কৃষক পরিবার গুলোর দাবী সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে সরেজমিন পরিদর্শন করে সহযোগীতা করতে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএএম/এসডি-০৯




