প্রতীকী ছবি

পুলিশের চাকরি আর করব না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখানেই থেকে যাব। নেদারল্যান্ডসে ডগ স্কোয়াডের প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল রাসেল চন্দ্র দে এমন কথা জানান তার বড় ভাই দুবাইপ্রবাসী সুভাষ চন্দ্র দেকে। প্রশিক্ষণে গিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোয় বড় ভাই সুভাষের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রাসেল।

সেই থেকে রাসেলের সঙ্গে পরিবারেরও যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা পল্লীর পল্লাইন্যাপাড়ার বাসিন্দা এই পুলিশ কনস্টেবলের বাসায় গিয়ে এসব তথ্য মেলে। রাসেলের মা রেবা রাণী দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার ছেলেকে প্রশিক্ষণে না যেতে বলার পরেও সে নেদারল্যান্ডসে গেছে। এখন আমি ছেলেকে কিভাবে পাই? 


তিনি জানান, তার দুই সন্তানের একজন দুবাইপ্রবাসী এবং ছোট ছেলে রাসেল পুলিশের চাকরিতে গিয়েছিল আট বছর আগে। কনস্টেবল রাসেলের স্ত্রী পম্পি রাণী দে বলেন, তার (স্বামীর) দেশে ফেরার কথা ছিল ২৪ মে। তারও চার দিন আগে সে আমাকে মোবাইলে বলেছিল, আমার জন্য শ্যাম্পু ও লোশন এবং তিন মাসের বাচ্চার জন্য দুধ কিনেছিল। কিন্তু এমন কী হলো যে দেশে না ফিরে সে পালিয়ে গেল? 

প্রসঙ্গত, গত ১০ মে বাংলাদেশ পুলিশের আট সদস্য নেদারল্যান্ডসে গিয়েছিল ডগ স্কোয়াডে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। তাদের ২৪ মে দেশে ফেরার কথা। দলের সঙ্গে দেশে না ফেরা দুই সদস্যের মধ্যে রাসেল চন্দ্র দে কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে। তিনি কক্সবাজারের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন জানান, গতকাল সকালে কনস্টেবল রাসেল চন্দ্র দের বাবা লক্ষ্মণ চন্দ্র দে ও মা রেবা রাণী দেকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, রাসেল তার জ্যেষ্ঠ ভাই দুবাইপ্রবাসী সুভাষকে তার দেশে না ফেরার কথা জানান। সেই থেকে রাসেলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বলেও তারা পুলিশকে জানিয়েছেন।  

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-১৭


সূত্র : কালের কণ্ঠ