(প্রতীকী ছবি)

সিলেটে সম্প্রতি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করে বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। সাধারণ যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অটোরিকশায় উঠে হারাচ্ছেন নিজের সর্বস্ব। সশস্ত্র ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে পড়ছেন প্রাণের ঝুঁকিতে।

এ অবস্থায় সিলেটে ছিনতাই ঠেকাতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে পুলিশ। গত ৪ দিনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ৮ ছিনতাইকারীকে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২ জুন) ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে সিলেট কোতোয়ালি থানাপুলিশ। এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার পৃথক অভিযানে ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিলেটের ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী চক্র নির্মূল করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 


বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া ৩ জন হচ্ছে- সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামের শাহানুরের ছেলে রুবেল আহমদ (২৮), সুনামগঞ্জ সদর থানার ওয়েজখালি (চৌধুরীপাড়া) গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে আলী নূর (২৪) ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পাঁঁচমাইল পীরগাঁও গ্রামের উজ্জল মিয়ার ছেলে পাবেল আহমদ (১৮)। 

শুক্রবার (৩ জুন) তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে সিলেটভিউ-কে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলী মাহমুদ। 

এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে আরও ৫ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানাপুলিশ। তারা হচ্ছে- জেলা পুলিশের বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল রোমান (২৬), মৌলভীবাজারের সাব্বির হোসেন (২৩), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের শাহাজাহান আহমদ (২৬), দক্ষিণ সুরমারা দুলাল মিয়া (২৪) ও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের রাসেল আহমদ।

এর মধ্যে শাহাজাহান আহমদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগে চারটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে দুলাল আহমদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে। বুধবার (১ জুন) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

আরও তথ্য জানার জন্য আদালতের কাছে গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারীদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। 

জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেটে বিভিন্ন কায়দায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে ছিনতাই। সিলেট নগরী ও শহরতলিতে সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে ভয়ঙ্কর ফাঁদ পাতে ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রীবেশে তারা অটোরিকশায় আগে থেকেই ওৎ পেতে বসে থাকে। সাধারণ যাত্রী তার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় উঠলেই সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে ওই যাত্রীর সর্বস্ব কেড়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ভয়ঙ্কর এ চক্র কতিপয় অটোরিকশা চালকের সঙ্গে আঁতাত করে এমন অপকর্ম ঘটাচ্ছে সিলেটে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৩১ মে) সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় দিন-দুপুরে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। ছিনতাইয়ের শিকার সমলা বেগম (৩৮) দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী। কয়েক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে সমলা বেগম তার ৮ বছর বয়েসি মেয়েকে নিয়ে গোলাপগঞ্জে যাওয়ার জন্য কদমতলি পয়েন্ট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেন তিনি। এসময় চালক ছাড়াও ওই অটোরিকশায় আরো ৩ জন যাত্রী ছিলেন।

অটোরিকশাটি গোলাপগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার পর শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় যাওয়ামাত্র যাত্রীবেশি ছিনতাইকারীরা সমলার গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও গলার চেইন কেড়ে নেয়। পরে দুই ছিনতাইকারী গাড়ি থেকে নেমে যায় এবং অপর ছিনতাইকারী চালককে ধমক দিয়ে দ্রুতবেগে গাড়ি চালাতে বলে। চালক তখন অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুতবেগে গোলাপগঞ্জের দিকে রওয়ানা হয়। এসময় অটোরিকশায় থাকা ছিনতাইকারী সমলাকে বলে- চিৎকার করলে তার মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলবে। ফলে সমলা আর চিৎকার করেননি। পরে নির্জন দেখে একটি স্থানে অটোরিকশা থামিয়ে সমলা বেগমকে অস্ত্রের মুখে নামিয়ে দিয়ে ছিনতাইকারী ও চালক অটোরিকশা নিয়ে দ্রুতবেগে সেখান থেকে চলে যায়।

এর আগের দিন (সোমবার) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভেতরে একটি অটোরিকশায় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা সালেহ আহমদ (২৬) নামের এক যুবককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার সবকিছু কেড়ে নেয় ছিনতাইকারী। এছড়াও এক ব্যক্তির এক লাখ টাকা ও আরেকজনের ৬৫ হাজার টাকা ছিনতাই হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা দুজনই সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
 
এসব ঘটনার খবর পাওয়ার পর তদন্ত ও অভিযানে নামে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা দেখে একটি অটোরিকশা চিহ্নিত করে পুলিশ। পরে ওই অটোরিকশার নম্বরপ্লেট দেখে সন্ধান চালিয়ে গত চার দিনে এই ৮ ছিনতাইকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
 
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের সিলেটভিউ-কে বলেন, সিলেট নগরী ও শহরতলির বিভিন্ন পয়েন্টে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাইকারীরা ওৎ পেতে থাকে এবং যাত্রী তুলে ছিনতাই করে। সিলেটে সম্প্রতি এমন অপরাধ বেড়েছে এটি সত্য। তবে চক্রটিকে নির্মূল করতে ও জড়িত সবাইকে ধরতে মহানগর পুলিশের প্রত্যেকটি থানা এবং বিশেষ ইউনিট কাজ করছে। শীঘ্রই এ চক্রের সবাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম