সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় বিএম ডিপো নামের একটি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে আগুনের পর বিস্ফোরণ হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে দগ্ধ হয়েছেন শতাধিক। আর আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কমপক্ষে ২১ জন কর্মী। এছাড়া এক পুলিশ কনস্টেবলের পা বিচ্ছিন্নসহ অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার রাত ১১টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়ি-ঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুনে আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এরমধ্যে কন্টেইনার ডিপোর কর্মী, পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা থাকতে পারেন।
রাত সাড়ে ৯টার পর বিএম ডিপোতে আগুনের সূত্রপাত হয় যা নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের অনেক দূর থেকেও আগুন দেখা গেছে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক বলেন, কনটেইনার ডিপোতে আগুনের ঘটনায় আহত অবস্থায় প্রায় অর্ধশত আহতকপ হাসপাতালে এসেছেন। আমরা গুনে শেষ করতে পারিনি। আহতদের গাড়ি আসতেছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ৮-১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পর্যন্ত কোনো মরদেহ আমরা পাইনি। কনটেইনার ডিপোর কর্মচারীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে। কিন্তু মালিক পক্ষের কাউকেই পাইনি। কর্মীরা জানিয়েছেন কনটেইনারগুলোতে রাসায়নিক পদার্থ ছিল।’
সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনারে বিস্ফোরণের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও আশপাশের সকল চিকিৎসককে চমেক হাসপাতালে আসার অনুরোধ করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস চৌধুরী।
রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিভিল সার্জন গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই আহ্বান জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগুনের ভয়বহতার কারণে কনটেইনার ডিপোর ভেতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। কেমিক্যালের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।’
এদিকে বিএম কন্টেইনার ডিপোর পরিচালক মজিবুর রহমান সিআইপি বলেন, কি কারলে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কন্টেইনার থেকেই আগুন ধরেছে বলে ধারণা করছি। নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে হতাহতদের পাশে থাকব। আহতরা যাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পায় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার আমরা বহন করবো। এ দুর্ঘটনায় যারাই হতাহত হয়েছে তাদেরকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। পাশাপাশি সকল হতাহতের পরিবারের দায়িত্ব নেয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/লাভলু




