সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরে অনবরত ঢুকছে পানি। পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। সিলেটের বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় পুরো সিলেট শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে সিলেট নগরীর অর্ধলক্ষাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার সব উপজেলায় ভয়াল গ্রাস করেছে বন্যা। সেখানেও ভয়াবহ বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে দেখা দিয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয়। সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন গেল দুইদিন ধরে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় তাদের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ গ্রাহক আছেন। তার মধ্যে সিলেট জেলার ১ লাখ এবং সুনামগঞ্জের ৯০ হাজার গ্রাহক এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমাস্থ বরইকান্দি উপকেন্দ্রে পানি উঠে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। উপশহর উপকেন্দ্রেও পানি উঠেছে। ফলে ওই উপকেন্দ্রের আওতাধীন তিনটি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে পুরো উপকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিউবো কর্মকর্তারা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে পানি উঠতে শুরু করে কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে। শুক্রবার পানি বেড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই উপকেন্দ্র থেকে পুরো সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে। কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি ঢুকার খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার ছুটে যান সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বিউবো কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সাথে আলোচনা করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চার পাশে বাঁধ দিয়ে সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন। এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষার কাজে নামে সেনাবাহিনী। বালু ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে পানি আটকানো ও সেচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানিয়েছেন, কুমারগাঁও থেকে বিভিন্ন সাবস্টেশনের মাধ্যমে পুরো সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দিতে হবে। এতে পুরো সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সেনাবাহিনী ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আবদুল কাদির আরও জানান, বর্তমানে বরইকান্দিস্থ উপকেন্দ্রটিতে পানি উঠে পড়ায় পুরো দক্ষিণ সুরমায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নগরীর উপশহর উপকেন্দ্রে পানি ওঠায় ৩টি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সবমিলিয়ে সিলেট নগরীর প্রায় ৫৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়ে ও তাঁর ছিড়ে যাওয়ায় বন্যা আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এসব উপজেলাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের কারণে নেটওয়ার্কের সমস্যায় ঠিকমত কাজ করছে না মোবাইল ফোনও। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বন্যার্তরা কথা বলতে পারছেন না, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে না। সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন মুঠোফোন কোম্পানীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাদের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় পোর্টেবল জেনারেটর (বহনযোগ্য) পৌঁছে মোবাইল টাওয়ার সচল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
এদিকে ছাতক ও সুনামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ামাত্র পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ/পিডি




