সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি। উপজেলা নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউপির উচু এলাকার পানি কিছুটা কমলেও নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকা সহ দরবস্ত, ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউপির এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে দ্বিতীয় দফা ভয়াবহ বন্যায় উপজেলা ৬টি ইউনিয়নের ঘর-বাড়ি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পাকা, কাঁচা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
চতুল-দরবস্ত এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ব্যতিত উপজেলা প্রতিটি ইউপির সংযোগ সড়ক দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে চারিকাটা, দরবস্ত, ফতেপুর (হরিপুর) ও চিকনাগুল ইউপির প্রায় ৮০ভাগ গ্রামীণ সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে৷ নিম্ন আয়ের মানুষ কর্ম হারিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন।
.jpg)
হাওরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ নৌকার অভাবে ঘর-বাড়ি হতে বের হতে পারছে না। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। নিম্নাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে। সড়ক সংলগ্ন এলাকা এবং আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষেরা সরকার ও দাতা সংস্থার ত্রাণ সহায়তা যতেষ্ট পরিমানে পেলেও নিম্নাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলের পানিবন্ধি মানুষের অর্ধেকের বেশি মানুষেরা ত্রাণ সহায়তা বঞ্চিত রয়েছে।
বিশেষ করে নিজপাট ইউপির লক্ষিপ্রসাদ হাওর, দিগারাইল, পাখিবিল, হর্নি, বাইরাখেল, ময়না, ডিবিরহাওর, খলারবন্দ, ফুলবাড়ি, মেঘলী, তিলকৈপাড়া, বন্দরহাটি, লামাপাড়া। জৈন্তাপুর ইউপির বাওন হাওর, ১নং ও ২নং লক্ষিপুর, কাঠালবাড়ি, আমবাড়ি, কাটাখাল, খারুবিল, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, কেন্দ্রী, কেন্দ্রী হাওর, বিড়াখাই, গাতিগ্রাম, ভিত্রিখেল ববরবন্দ, হাটিরগ্রাম, লামাবস্তি, লামনীগ্রাম, মোয়াখাই, চারিকাটা ইউপির লালা, থুবাং, রামপ্রসাদ, আদর্শগ্রাম, বালিদাঁড়া, আঞ্জাগ্রাম, কেলেসিং, বনপাড়া ৷ দরবস্ত ইউপির ছাতারখাই, চাল্লাইন, লামা ও উপর মহাইল, হাজরী ও ছোটারী সেনগ্রাম, কাঞ্জর, গর্দ্দনা, নয়াবাজার, বড়পুঞ্জি, ফরফরা, তেলিজুরী, ডেমা, মুটগুঞ্জা, শুকইনপুর, ফান্দু, বারাইগ্রাম, বিছনাটেক, পাকড়ী, ফতেপুর (হরিপুর) হরিপুর, বালিপাড়া, হেমু, হাউদপাড়া, মাঝপাড়া, জুহাইরটুক, পাটনিপাড়া, লামা ও উপর শ্যামপুর, চাঁনঘাট, বাগেরখাল, চিকনাগুল ইউপির কহারগড়, সাতজনি, নবমখন্ড, ঠাকুরের মাঠি পূর্ব-পশ্চিম, খানবাগান নিম্নাঞ্চল।
বন্যার কারনে আউস ধান ফলাতে না পারায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক আমন ধানের বীজতলাও বিনষ্ট হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন সেক্টরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা বরছেন।
অপরদিকে গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘরবন্ধি ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন বৃদ্ধ ওশিশুরা। সারী ও বড়গাং নদীর পানি স্বাভাবিক হতে শুরু হলেও ভারী বর্ষনে নদী নদীর পানি যে কোন মুহুত্বে বিপদ সীমার উপরে চলে যাবে। এছাড়া সারি ও বড়গাং নদীর ভাঙ্গনে উপজেলা তিনটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। আরও বেশ কয়কটি গ্রামের বাড়ী ঘর নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার কাছি কাছি অবস্থানে রয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে নদীগর্ভে বিলিন হবে। কয়েকটি গ্রামীণ রাস্তার বেশিরভাগ অংশ ইতোমধ্যে নদীর পেটে চলে গেছে।
মোবাইল যোহাযোগের মাধ্যম নেটওয়ার্ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পতে রয়েছে।
এদিকে জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর বরাদ্ধ দ্রুত বানভাসি মানুষের মধ্যে বিতরণ করছে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহ ইউপি চেয়ারম্যানগনরা।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিপামনি দেবী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন কামাল আহমদসহ উপজেলার সকল ইউপি সদস্য ও সদস্যারা, গ্রাম পুলিশের সদস্য, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের নিয়ে উপজেলা জুড়ে সকাল হতে মধ্যরাত পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাশি ব্যব্ত উদ্যোগে পৌছে দেওয়া, আশ্রয় কোন্দ্রে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরকেএস/এসডি-০৮




