সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বন্যা দুর্গতদের জন্য হেলিকপ্টারে করে উপর থেকে বিমান বাহিনীর দেয়া ত্রান সামগ্রী নিতে গিয়ে বিপ্লব মিয়া (৪০) নামে এক অভুক্ত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আরো ৫জন গুরুতর আহত হয়েছে।

 


মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে চিকিৎসারত তার  মৃত্যু হয়েছে।

তিনি উপজেলা সদরের উজান তাহিরপুর গ্রামের শহীদ আলীর ছেলে। নিহত বিপ্লব ২ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

 

জানা যায়, গত সোমবার বন্যা কবলিতদের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার উপর থেকে উপজেলা সদরের সেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় নীচ থেকে ত্রাণ নিতে গিয়ে বিপ্লবসহ আরো ৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহত বিপ্লব সহ ৬ জনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে আহত বিপ্লবের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ (মঙ্গলবার) সকালে সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিকেল ভর্তি করা হলে চলে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তরফদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ত্রাণ নিতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে গুরুতর আহত বিপ্লব নামে একজন সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।

 

মঙ্গলবার তিনটার দিকে নিহত বিপ্লব মিয়ার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

 

নিহতর স্ত্রী রত্না বেগম অঝোরে কাঁদছিলেন এবং বলছিলেন আমার দুই ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে এখন কি করবো, কিভাবে বাঁছবো ভেবে পাচ্ছি না। এবারের বন্যায় ঘর নিল, বাড়ী নিল এখন স্বামীও চলে গেল। সন্তানদের মুখের দিখে তাকিয়ে বার বার তিনি কাদঁছিলেন এবং মুর্চা যাচ্ছিলেন। নিহতের সন্তানদের কোনো ভাবেই শান্তনা দেয়া যাচ্ছিল না। বাবার লাশের পাশে বসে কাদঁছিল অবুঝ চার সন্তান।

 

আছরের নামাজের পর সন্ধার ৬ টার সময় উপজেলা সদর প্রাঙ্গনে জানাজা নামাজ শেষে তাহিরপুর উপজেলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএআর/এসডি-২২