বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সারদেশের মানুষ যখন দুর্যোগে হাহাকার করছে, সরকার তখন উৎসবে মেতেছে। সিলেটের ৩০ লাখ বানভাসি মানুষের জন্য মাত্র ৬০ লাখ টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। দেশের মানুষকে অভুক্ত রেখেই সরকার পদ্মা সেতু নিয়ে উৎসব করছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার খাজার মোকাম উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য গান-বাজনা হবে। কিন্তু জনগণ না খেয়ে আছে, মারা যাচ্ছে- সেদিকে তাদের খেয়াল নাই। কারণ, জনগণকে তারা তোয়াক্কা করে না। 

ত্রাণের জন্য মানুষ হাহাকার করছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন , বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যার্থ হয়েছে সরকার। লক্ষ লক্ষ মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করলেও প্রধানমন্ত্রী গুটিকয়েক মানুষকে ত্রাণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন। অথচ ২০০৪ সালের বন্যায় খালেদা জিয়া মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন- কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে ঘুরে গেছেন বন্যাকবলিত এলাকা।  

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ দুর্নীতির জন্য বড় বড় প্রজেক্ট করে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য। কিন্তু জনগণের জন্য প্রজেক্ট করে না। 
শেয়ালের কাছে যেমন মুরগী দেয়া যায় না, তেমনি শেখ হাসিনার হাতে নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া যায় না। তাই তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। 

জনগনের ভোটের অধিকার ফেরাতে এই সরকারকে রুখে দেয়ার জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান মির্জা ফখরুল।
 
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

এর আগে ত্রাণ বিতরণের বৃহস্পতিবার সকালে বন্যাদুর্গত সিলেটে এসে পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি হযরত শাহজালাল রাহ. ও শাহপরান রাহ. মাজার জিয়ারত করেন। এরপর সিলেট জেলা বিএনএপির উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য জৈন্তাপুর উপজেলায় যান। সেখানে স্থানীয় খাজার মোকাম উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যার্ত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীসহ দলের অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মী। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম