সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দ্বিতীয় দফা ভয়াবহ বন্যার করাল গ্রাসে ধসে যায় শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি, ভেসে যায় গবাদি পশুপাখিসহ কোটি কোটি টাকার মাছ ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তথাপি বন্যার পানি ধীরে ধীরে হ্রাস পেলেও পরিবার-পরিজন ও আধমরা গবাদি পশুপাখি নিয়ে বাঁচার তাগিদে একটুখানি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছিলেন উপজেলার বনার্ত পরিবারগুলো।

 


কিন্তু বিধি বাম! তবুও শঙ্কা কাটেনি বানভাসি লাখো মানুষের। টানা ১০দিন বিরতির পর সোমবার রাতভর মুষলধারে ভারি বর্ষণ, মঙ্গলবার ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতির পর রাতভর আবারো বর্ষণ। ফলে দুই রাতের বর্ষণে সুরমা, চিলাই, চলতি, চেলা, মরা চেলা, কালিউড়ি. খাসিয়ামারা ও ছাগলচোরা সহ হাওড় খাল-বিলে হু হু করে পানি বাড়ছে।

 

এদিকে সীমান্তবর্তী লক্ষীপুর, বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নসহ উপরিভাগের মাঠে ৫০ থেকে ৬০ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে ছুঁই ছুঁই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সড়কের পানি নেমে গেলেও মঙ্গলবার থেকে আবারো বিভিন্ন সড়ক ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে। জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

বুধবার ভোর থেকে আকাশ পরিস্কার থাকলেও বিকালে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। রাতভর বর্ষণ অব্যাহত থাকলে সদ্য শুকিয়ে যাওয়া বাড়িঘর আবারো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিদ্র রাতদিন কাটছে লক্ষাধিক মানুষের।

অপরদিকে সুরমা, বগুলা, দোহালিয়া, মান্নারগাঁও ও দোয়ারাসদর সহ নিম্নাঞ্চলে এখনো পানিবন্দি রয়েছেন লাখো মানুষ। আবারো পানি বৃদ্ধিতে অধিক ঝুঁকিতে সব হারানোর ভয়ে বিচলিত হয়ে পড়েছেন তারা। কেননা দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি না কমতেই আবারো নতুন বন্যার অশনি সংকেত। এ যেনো মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাদের আহাজারিতে প্রকম্পিত হচ্ছে আকাশ-বাতাস। উপদ্রুত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা অপ্রতুল বলছেন বানভাসিরা। পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, খাবার স্যালাইনসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

দোয়ারাবাজারের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা প্রিয়াংকা বলেন, কিছুদিন বিরতির পর আবারো ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত নদ-নদীর উপচে পড়া পানিতে বিভিন্ন এলাকার রাস্তা, মাঠঘাট ও খাল-বিলে আবারো পানি বাড়ছে। তবে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

 

প্রশাসনসহ আমাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলো উপদ্রুত এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/টিআই/এসডি-৪০