ইতিহাস সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পুরো উপজেলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খামার ও পুকুর থেকে বেরিয়ে গেছে সকল মাছ। এতে এই খাতের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় ৪৫০ টি খামার বা পুকুর। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৩৫০ জন খামারি। তাদের অনেকে লাভের আশায় টাকা লোন করে খামার করেছিলেন। কিন্তু মূলধনসহ সবকিছু ভেস্তে গেছে বানের পানিতে। ভারতের মেঘালয় থেকে ধেয়ে আসা ঢল ও বৃষ্টি নিয়ে গেছে তাদের সবকিছু।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪৫০ টি মৎস্যখামার ভেসে গেছে। এতে অনুমানিক প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি খামারিদের। তবে মাছ চাষের সাথে জড়িতদের দাবি সব মিলিয়ে ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
গত ১৫ জুন থেকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কোম্পানীগঞ্জে বন্যার সৃষ্টি হয়। উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ধলাই ও পিয়াইন নদীর প্রবল স্রোতে উত্তর রনিখাই, দক্ষিণ রনিখাই তেলিখাল, ইছাকলস, ইসলামপুর পূর্ব ও ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সবকটি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামের মৎস্য খামারী আ. সৈয়দ জানান, আকষ্মিক বন্যায় তার পুকুরের দু'পাড় ভেঙ্গে ২ থেকে ৪ কেজি ওজনের প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। তিনি এখন মূলধন হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
কালীবাড়ী গ্রামের খামারি সিরাজ মিয়া জানান, তার ফিসারীর ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এটাই ছিল তার রুটি রুজির একমাত্র অবলম্বন। এখন তিনি কি করবেন, বাচ্ছাদের কিভাবে লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, একদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষন, অপরদিকে পানির প্রবল স্রোত থাকায় মৎস্য চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান দ্রুত নিরুপন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানানো হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এজে/এসডি-২৫




