সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ডের চৌকিদেখি এলাকার রাস্তায় কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে রথযাত্রায় বাঁধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে সিসিক মেয়র, এসএমপি কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক ৩ টি অভিযোগ প্রদান করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। এরআগে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর রাস্তায় পশুর হাট না বসাতে আবেদন করেছিলেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এ তিন দপ্তরে অভিযোগ করেন কোলাগুল, লাকাতুরা, মালনীছড়া, কেওয়া চড়া, তারাপুর, তেলিহাটি ও আলী বাহার চা-বাগানবাসীর পক্ষে তুবেশ, কালু দাস, মিলন রাজ, যতন, বিশু, দেবাশীস ও ধীরেন নামের কয়েকজন।
অভিযোগে তারা বলেন, আমরা কোলাগুল, লাকাতুরা, মালনীছড়া, কেওয়া চড়া, তারাপুর, তেলিহাটি ও আলী বাহার চা-বাগানের হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোক। আমাদের ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা এর ফিরতি রথ উদযাপিত হলে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইজারাকৃত সিলেট নগরের ব্যস্ততম ভিআইপি রোড এয়ারপোর্ট মূল সড়কের উপর ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট ইজারা প্রদান করা হয়। উক্ত রথযাত্রায় সকল বয়সী নারী, পুরুষ, ছেলে ও মেয়েরা অংশগ্রহণ করে রথযাত্রা টেনে নিয়ে যাবে। তাই এই পশুর হাটের কারণে আমাদের ফিরতি রথ বাঁধাগ্রস্ত হবে। ফলে রথযাত্রায় যাতায়াতের অসুবিধা ও যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এয়ারপোর্ট ভিআইপি, চৌকিদেখী মূল সড়কের উপর থেকে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট স্থগিত/বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।
তিন দপ্তরে দায়েরকৃত অভিযোগে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, গত ২৪ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভার্চুয়াল সভা ও ১৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুষ্ঠিত সভা হয়। এছাড়া সিলেট জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে গত ১৪ জুলাই তারিখে আরেক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় সিদ্ধান্ত হয় ‘মহাসড়কে ও রাস্তার অতি সন্নিকটে পশুর হাট বসানো যাবে না। প্রয়োজনে এসব পশুর হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের মন্তব্য জানতে একাধিক বার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেট জেলা প্রশাসন সিলেট মহানগরে ৬ টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয়। সে হিসেবে মহানগরের চৌকিদেখি সংলগ্ন পয়েন্টে একটি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। সে লক্ষ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন টেন্ডার আহ্বান করে হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়। হাট বসানোর পূর্বে স্থানীয়রা এতে আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন। তারা বলেন- চৌকিদেখি এলাকায় কোনো পয়েন্ট বা মাঠ নেই। এখানে পয়েন্ট দেখিয়ে সড়কে হাট বসানোর পায়তারা চলছে। ইতিমধ্যে জনসাধারণের কথা চিন্তা করে সরকারের তরফ থেকে রাস্তায় পশুর হাট না বসানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবুও সেখানে পশুর হাট বসেছে। সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও রাস্তা থেকে কোরবানির পশুর হাট স্থগিত বা বাতিল করেন নি সংশ্লিষ্টরা।
গত পরশু এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ বলেন, সড়ক বা মহাসড়কে পশুর হাট না বসাতে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। জন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে দেব না। কেউ সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের উপর দোষ বর্তায়। আমরা চাই না পুলিশকে কেউ গালিগালাজ করুক।
তিনি আরও বলেন, সমন্বয় সভায় রাস্তায় পশুর হাট বসানোর অনুমোদন না দিতে সিসিক ও জেলা প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। তারা অনুমোদন দিয়েছেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেপি-০৫




