সুনামগঞ্জে বিভিন্ন অভিযোগে মামলার আসামি হওয়া ৬৫ শিশুকে দন্ড না দিয়ে প্রবেশনে বাবা-মায়ের কাছে থাকার অনুমতি দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত।

 


এসময় তাদের হাতে জাতীয় পতাকা, ফুল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই, কলম-ডায়েরি উপহার দেয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে তাদের ৬ টি বিধিনিষেধ মেনে চলার শর্ত দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই ব্যতিক্রমী  রায় প্রদান করেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ৩২৩ ধারায় সুনামগঞ্জে ৫২টি মামলায় ৬৫ জন শিশুকে মামলায় জড়ানো হয়। ক্ষুদ্র ‘অভিযোগে’ এসব শিশুদের প্রায়ই আদালতে হাজিরা দিতে হয়। সেকারণে শিশুদের ভবিষ্যত অনিশ্চিয়তা এবং তাদের শিক্ষাজীবন ব্যহত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে শিশুদের এসব অসুবিধা থেকে মুক্তি দিতে কারাগারে না পাঠিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে রেখে সংশোধনের জন্য সুযোগ দিয়েছেন আদালত। বাবা-মা মায়ের পাঠাতে যে ৬টি শর্ত দিয়েছেন আদালত সেসবের মধ্যে - প্রবেশনে থাকাকালে মুুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রদত্ত বইটি পাঠ করা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গবাদি পশু পালন, ইলেক্ট্রিক্যাল কাজসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে গ্রহণ করা, প্রতিদিন অনন্ত দুইটি ভালো কাজ করা ও প্রদত্ত ডায়েরিতে লিখে রাখা, প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা, নিয়মিত ধর্মকর্ম করা এবং বাবা-মায়ের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকা ও অপরাধের কাজে নিজেকে না জড়ানো।

 

এসব শর্ত প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা তা প্রবেশন কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষনে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। আদালতের এমন রায়ে সন্তুষ প্রকাশ করেছের প্রবেশনে মুক্তি পাওয়া শিশুসহ তাদের অভিভাবকরা।

 

দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের জাবির ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের মারামারিতে আমাকে আসামি করা হয়। আসামি হওয়ার পর থেকে আদালতে  হাজিরা দিতে হয়। এতে পড়া লেখার সমস্যা হয়েছে।

 

সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মামুন মিয়া বলেন, আমি শহরের এক দোকানে কাজ করি। দোকানে মারামারি ঘটনায় পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে আসে। এরপর থেকে মামলার আসামি হয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যে ছিলাম। আদালতের এমন মহানুভবতা আমাকে নতুন সুযোগ করে দিয়েছে। প্রবেশনে থাকাকালীন সকল শর্ত মেনে চলবো।

 

সুনামগঞ্জ জেলার প্রবেশন কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। শিশুদের ভবিষ্যতে বেড়ে উঠতে কাজে দিবে এতে করে শিশুরা অপরাধ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবে। আদালত তাদের ৬টি শর্ত দিয়েছেন এবং আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করবো।

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নান্ট রায় বলেন, আদালতের এমন রায়ে শিশুরা নিজেদের সংশোধনের সুযোগ পাবে। এমন রায় বিচারঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসএনএ/এসডি-০১