বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই অনুয়ায়ী সুনামগঞ্জেও গত মঙ্গলবার থেকে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ ঘোষিত সূচি অনুযায়ী লোডশেডিংয় করছেন না। ফলে গ্রাহকেরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। কর্মকর্তা বলছেন, চাহিদার চেয়ে অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সূচিও ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার (২০ জুলাই) সময়মতো লোডশেডিং মানা হয়নি। কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল। এছাড়া শহরের কোথাও কয়েক দফায় লোডশেডিং হয়েছে। উপজেলার এলাকাভেদে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের পর গ্রাহকেরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে সে অনুযায়ী লোডশেডিং না হওয়ায় গ্রাহকেরা বিপাকে পড়েছেন মানুষ। গ্রামীণ পর্যায়ে দিন ও রাতে মিলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬-৮ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে প্রচন্ড গরমে লোডশেডিংয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও তার স্থায়ীত্ব ২০- ৩০ মিনিটের বেশি হয় না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মহিবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ বললো এলাকা ভেদে এক থেকে দুই ঘন্টা লোডশেডিং হবে। কিন্তু আমাদের বেলা তা উল্টো। দিন রাতে দুই থেকে তিন ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাই না। রাতের বেলা ১০ মিনিট ২০ মিনিট করে কয়েকবার বিদ্যুৎ পাই। বাকি সময় অন্ধকারে থাকি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা আঙ্গুর মিয়া বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানাউক আমরা কত সময় বিদ্যুৎ পাব। দিনে রাতে তিন ঘন্টাও বিদ্যুৎ পায়না উপজেলাবাসী। কোথায় শিডিউল? তাওতো আমরা জানি না। মানুষকের কষ্টের কোনো দাম নাই। এটার নিরসন প্রয়োজন।
সনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ চাহিদা ৬৩-৬৫ মেগাওয়াট৷ কিন্তু চলতি সময় ৩০-৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন তারা। ফলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবার করা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পিডিবির আওতায় ২৯ হাজার গ্রাহক রয়েছে সুনামগঞ্জে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ প্রয়োজন ৯ মেগাওয়াট। কিন্তু ৫-৬ মেগাওয়াটের চেয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন পিডিবি কর্তৃপক্ষ। তাই শহর এলাকায় লোডশেডিং এর শিডিউল মানতে পারলেও শহরতলিতে মানা যাচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, আমাদের চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। জেলা চাহিদা ছিল ৯ মেগাওয়াট অথচ সরবরাহ হয়েছে ৫ বা ৬ মেগাওয়াট। এজন্য সূচি মেনে লোডশেডিংয়ের করা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, চাহিদা অনুযায়ী অর্ধেক বিদ্যুৎও আমরা পাচ্ছি না। তাই শিডিউল মানা যাচ্ছে না। আমদের পক্ষ থেকে সূচি দেওয়া হয়েছে সেটা বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরিবর্তন হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের চার জেলায় পিডিবির অধীন গ্রাহক আছেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক আছেন প্রায় ১৯ লাখ। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলিয়ে বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা আছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বিভাগের চার জেলায় গতকাল পিডিবির গ্রাহকদের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২১০ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় গতকাল ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে ৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং বিউবো কর্তৃপক্ষকে করতে হয়েছে। একইভাবে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরাও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাননি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শহীদনূর/মাহি




