সিলেটের ওসমানীনগরে ‘রহস্যজনকভাবে’ মারা যাওয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী পিতা ও পুত্রের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বেলা আড়াইটায় পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। 

এর আগে বেলা সোয়া ২টায় দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল মাদরাসা মাঠে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, ওসমনাীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী ও দায়মীর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন। 


রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি। ঘটনার পর থেকে তদন্তে নেমেছে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাবসহ গোয়েন্দারা। তারা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার নিহত দুই প্রবাসীর লাশ ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) উপজেলার ধিরারাই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী পিতা পুত্রের দাফন সম্পন্ন হবে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর স্কুল রোডের একটি বাসা থেকে একই উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই খাতুপুর গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০), তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৪৫), ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৬) ও সাদিকুল ইসলাম (২৫) এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন এখনো হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন।

গত ১২ জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। এরপর ঢাকায় একসপ্তাহ থেকে গত ১৮ জুলাই তাজপুর স্কুল রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন । সোমবার রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে বাসার অন্যান্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুলদের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন দেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানাপুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থায় পাঁচ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। 

এদিকে, ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত। এক সাথে পরিবারের পাঁচ সদস্যের অচেতন হওয়া এবং দুজনের মৃত্যুবরণের কারণ রহস্যের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী এখনো ঘটনার কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি। 

বিষক্রিয়ার কারণে ঘটনাটি ঘটতে পারে- প্রাথমিকভাবে পুলিশ এমনটি জানালেও এ বিষয়টি এখনও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। এ ঘটনায় নিহত রফিক মিয়ার শ্বশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী শোভা বেগম এবং বাসার কেয়ারটেকারসহ মোট ১২ জনকে মঙ্গলবার রাতে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ট্রাজেডির রহস্য উদঘাটনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও মারা যাওয়া পিতা-পুত্রের ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 

অপরদিকে, বুধবার দুপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন পিপিএম তাজপুর স্কুল রোডে ঘটনাস্থলের বাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় ডিআইজির সাথে ছিলেন, সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর সার্কেল রফিকুল ইসলাম ও ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাঈন উদ্দিন।

পরিদর্শনকালে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন পিপিএম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ বিভিন্ন বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। পরিবারের ভেতর থেকে কেউ বিষ প্রয়োগ করেছে নাকি বাহিরে থেকে কেউ বিষ প্রয়োগ করেছে- সে বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জানানোর মতো বড় ধরণের কোনো তদন্তের অগ্রগতি নেই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা ভালো আছে, তবে নিহতের একমাত্র মেয়ে সামিরার অবস্থা সংকটাপন্ন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / রনিক / ডালিম