সিলেটে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে একটি বাসার দুটি ইউনিটে চুরির ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
গত শুক্রবার রাতে সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা এলাকার ফতেপুর নামক একতলা বাসায় দুটি ইউনিটের বাসিন্দাদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরে শনিবার ভোরে অসুস্থদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তারা শনিবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন।
ওই বাসার বাসিন্দা নিগার সুলতানা জানান, বড়শালা এলাকার ‘সিলেট ক্লাব’র পেছনের টিনশেডের একতলা বাসায় তারা দুটি পরিবার ভাড়া থাকেন। শুক্রবার রাতে দুই পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে সুলতানার ভাই সাহেদ আহমদ রাতে অন্যত্র খেয়ে আসায় বাসায় রাতের খাবার খাননি। সাহেদ প্রায় পুরো রাতই জেগে ছিলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাশের কক্ষ থেকে মা-বোনের চিৎকারে তিনি দৌঁড়ে গিয়ে দেখেন- ওই কক্ষের জানালার এক অংশ খোলা। এসময় সাহেদের মা সাহেদকে বলেন- জানালার কপাট খোলার শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেলেও তিনি চোখে ঝাপসা দেখছিলেন এবং কয়েক বার বমি করেন। তাই চিৎকার করে ছেলেকে ডাকেন।
সাহেদ এসময় মা-বোনসহ তার পরিবারের ৩ জনকে অসুস্থ দেখতে পান। এসময় পাশের ইউনিটের লোকজনকে ডাকতে গিয়ে তাদেরও একই অবস্থা দেখতে পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে ভোর ৫টার দিকে অসুস্থ সবাইকে নিয়ে গিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুলতানা বেগম আরও জানান, তাদের দুই পরিবারের মোট ৮ জন অসুস্থ হন। আহতরা হলেন- সাজেদা বেগম (৫০), তাঁর ছেলে সাহানুর রহমান (১৭), মেয়ে নিগার সুলতানা (২৮), সুভাস চন্দ্র দে (৬৫), তাঁর স্ত্রী গৌরি রানি দে (৫৭), সুভাসের ভাই শ্রীভাস চন্দ্র দে (৬০), শ্রীভাসের স্ত্রী শিবানী চন্দ্র দে (৫২) ও সুভাসের ভাতিজা সুজন দে (৩৫)।
সুলতানার ভাই সাহেদ আহমদ শনিবার বিকালে সিলেটভিউ-কে জানান, তাদের রান্নাঘরের জানালার নেটের কিছু অংশ কাটা। জানালার পাশেই চুলায় ভাত-তরকারি রান্না করা হয়। শনিবার সকালে সাহেদ দেখেন- ওইখানে সাদা রঙের গুড়ো ছড়ানো। ভাতের সঙ্গে কেউ ঘুমের বা চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়েছে বলে সাহেদের মন্তব্য।
সাহেদ আরও জানান, তাদের বাসার কিছু চুরি না হলেও পাশের ইউনিটের খাবার কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে চোরেরা।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির রোববার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটভিউ-কে বলেন- ওই দুই পরিবারের মধ্যে এখনও মামলা দায়ের করেননি। তবে আমাদের তদন্ত চলমান আছে।
ওসি জানান, কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে সেটি এখনও তারা বিস্তারিতভাবে জানাতে পারেননি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




