শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ (পিসএসএস) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শ্রীলঙ্কার চলমান রাজনৈতিক সংকট: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ আগস্ট) বিকাল সাড়ে তিনটায় জুম অ্যাপে ওয়েবিনারটি শুরু হয়। টানা দেড় ঘন্টা আলোচনা শেষে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
এতে কি নোট প্রেজেন্টারের বক্তব্যে শ্রীলঙ্কার ফেক্টামের সিনিয়র উপদেষ্টা ড. রাঙ্গা কালানসুরিয়া বলেন, চীন শ্রীলঙ্কাকে বলেনি তাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে। বরং শ্রীলঙ্কা চীনকে অনুরোধ করেছে আমাদেরকে ঋণ দেন।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার আজকের এই সংকটের মূল কারণ হচ্ছে শাসক গোষ্ঠীর দুর্নীতি, রাজাপক্ষের পরিবারের একনায়কতন্ত্র, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শ্রীলঙ্কায় গণতন্ত্রের অভাব ছিল। জনগণের সঙ্গে সরকারের অনাস্থার সম্পর্ক ছিল। এজন্য শ্রীলঙ্কার এই সংকট দেখা দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার এই রাজনৈতিক সংকট কাটতে আরও ‘চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে’ বলে কালানসুরিয়া ও অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মুইনুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় গণতন্ত্রের অভাব তো আছেই। সেখানে দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্র রয়েছে। এছাড়া সেখানে গণতন্ত্রও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় নি। বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মধ্যেও একই ধরণের প্রবণতা লক্ষনীয়। তবে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী এখন চেষ্টা করছে এটা থেকে বের হওয়ার। শ্রীলঙ্কার এই বর্তমান অবস্থা থেকে বাংলাদেশের সরকারও এটা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
তাহলে বাংলাদেশেরও যে সংকট গুলো ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে তা সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি বক্তব্যে বলেন।
ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- শাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পিএসএস বিভাগের অধ্যাপক দিলারা রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএসএসের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসালাম। ওয়েবিনারটির সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক।
ওয়েবিনারে আরও যুক্ত ছিলেন পিএসএস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম জাকিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক মো. ফাখরুস সালাম, সহকারী অধ্যাপক আবু সুফিয়ান সহ বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-১৯




