জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য সাবেক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল জব্বারের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

মরহুম আব্দুল জব্বারের ছেলে মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার-২ পদে কর্মরত রয়েছেন।


রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে যাঁরা আজীবন বাংলার গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন, প্রয়াত নেতা আব্দুল জব্বার তাদের অন্যতম।’

“মরহুম আব্দুল জব্বার ছিলেন একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ও অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ১৯৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০’র সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।”

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে মরহুমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের ১৮ জন সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যার পর আব্দুল জব্বার ১৭ আগস্ট কুলাউড়া শহরে প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি মেজর নুর রাতভর অমানুষিক নির্যাতন করে, ভোররাতে হত্যার জন্য ব্রাশফায়ার করতে গেলে তৎকালীন সেনা অফিসার আমিন আহমেদ চৌধুরী তাঁকে উদ্ধার করেন এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশে পদক-এ ভূষিত আব্দুল জব্বার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে প্রতিবাদে সোচ্চার থেকেছেন সবসময়।’

এদিকে, মরহুমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, আব্দুল জব্বার ফাউন্ডেশন ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মরণসভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহাপাঠ, মোনাজাত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে