চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আগস্ট মাস অবধি আট মাসে দেশে ৩৬৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। গড়ে প্রতি মাসে ৪৫ শিক্ষার্থী বেছে নিয়েছে চূড়ান্ত পথ। আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ শতাংশ সিলেট বিভাগের।
এমন তথ্য দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন। সমীক্ষা চালিয়ে এসব তথ্য তুলে এনেছে সংগঠনটি। আজ ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসকে সামনে রেখে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে তারা।
আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। তবে স্কুলপড়ুয়াদের সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের আত্মহত্যার প্রবণা বেশি।
আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে সিলেট বিভাগের ক্ষেত্রে এ হার ৪ শতাংশ। যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এর বাইরে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়াদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১, রংপুর বিভাগে ৮ দশমিক ৭৮, বরিশাল বিভাগে ৯ দশমিক ৬২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ দশমিক ৪২, রাজশাহী বিভাগের ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আট মাসে ১৯৪ জন স্কুলপড়ুয়া, ৭৬ জন কলেজপড়ুয়া, ৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ও ৪৪ জন মাদরাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, এই বিষয়টিও তুলে এনেছে আঁচল ফাউন্ডেশন। তাদের তথ্যমতে, প্রেমঘটিত কারণে সবচেয়ে বেশি ২৫ দশমিক ২৭, অভিমান করে ২৪ দশমিক ৭৩, পরিবারের সঙ্গে চাওয়া-পাওয়ার অমিল হওয়ায় ৭ দশমিক ৪২ এবং পারিবারিক কলহের কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ এ পথ বেছে নিয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানির কারণে ৪ দশমিক ৬৭, মানসিক সমস্যার কারণে ৬ দশমিক ৫৯, পড়াশোনার চাপে শূন্য দশমিক ৮২, সেশনজটে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর বাইরে চুরির মিথ্যা অপবাদে ১ দশমিক ৬৫, আর্থিক সমস্যায় ১ দশমিক ৯২, বিষাদগ্রস্ত হয়ে শূন্য দশমিক ৫৫, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং স্বামী পছন্দ না হওয়ায় ১ দশমিক ১০ শতাংশ এ পথ বেছে নিয়েছে।
তবে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশের আত্মহননের পেছনের কারণ উদ্ঘাটিত হয়নি।
এদিকে, আজ আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যার প্রবণতার পেছনে দায়ী কারণগুলো সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে




