গত এক সপ্তাহ ধরে তিন দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্প্লিন্টারবিদ্ধ সজল কুণ্ডু। চলমান সপ্তাহে প্রশাসনের সাড়া না পেলে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি। 

 


মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সজল। অবস্থান কর্মসূচির এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে একাকী মিছিল করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তিনি।

 

তার তিন দফা দাবি হল- বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নামে করা হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; শিক্ষার্থীদের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে হবে; অন্যায়ভাবে কেড়ে নেয়া কর্মসংস্থান (ক্যাফেটেরিয়া) ফিরিয়ে দিতে হবে। 

 

সজল বলেন, ‘এই সপ্তাহে দাবির বিষয়ে প্রশাসনের কোনো সাড়া না পেলে পরবর্তী সপ্তাহে কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।’

 

তবে কঠোর কর্মসূচি কি হবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে জানাবেন বলে জানান তিনি। 


 
এদিকে- সজলের দাবির সাথে সংহতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংহতি প্রকাশ করেন জোটের নেতৃবৃন্দ।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জোটের নেতৃবৃন্দ জানান, গত ১৬ ই জানুয়ারি শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে পুলিশি হামলায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সজল কুণ্ডু সহ অনেক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী আহত হন।

 

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের উপর হওয়া নৃশংস হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের জের ধরে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নামে অজ্ঞাতনামা মামলা করে পুলিশ।


 
‘আন্দোলনের এক পর্যায়ে সরকারের উচ্চ মহল থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরে যায়। তবে সেই আশ্বাসের পর প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা  মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা গুলো প্রত্যাহার  করা হয় নি।’
 


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মামলা প্রত্যাহার তো করা হয় নি বরং আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দায়ে হামলায় আহত সজল কুণ্ডুকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। আইআইসিটি ক্যাফেটেরিয়া তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক এই শিক্ষার্থী তার সকল পুঁজি এই ক্যাফেটেরিয়ায় বিনিয়োগ করেন এবং সফলভাবেই পরিচালনা করে আসছিলেন। 

 

‘কিন্তু রমজানের ছুটির পর ক্যাম্পাস খোলার পরে ক্যাফেটেরিয়ার বিষয়ে সজল কুণ্ডকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে বিনা নোটিশে তার কাছ থেকে ক্যাফেটেরিয়ার চাবি নিয়ে নেয়া হয়। রোজার ঈদের পর চাবি চাওয়ার পর থেকে গত চার মাসে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হলেও ক্যাফেটেরিয়া আর ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। উপরন্তু নানাভাবে তাকে কর্মসংস্থান ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

 

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক অতি দ্রুত শাবিপ্রবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা অজ্ঞাতনামা সকল মামলা প্রত্যাহার, হামলায় গুরুতর আহত সজল কুণ্ডর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, তার থেকে কেড়ে নেয়া কর্মসংস্থান, তার ক্যাফেটেরিয়া অতি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান জোটের নেতৃবৃন্দ।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/মুন্না