স্কটল্যান্ড থেকে যে কফিনে করে রানীর লাশ লন্ডনে নিয়ে আসা হয়েছিলো তা সাদামাটা কোনো কফিন নয় । এটি রানির জন্য তৈরি করা হয়েছিলো আজ থেকে ৩০ বছর আগে । রাজ পরিবারের সদস্যদের লাশ বহনের জন্য এ ধরনের বিশেষ কফিন তৈরি করা হয়। রানীর শেষকৃত্য কীভাবে হবে- নৌবাহিনী অফিসাররা সেই প্রশিক্ষন নিয়ে আসছিলেন ২০ বছর আগে থেকেই।
কফিনটি তৈরি করা হয়েছিলো ইংলিশ ওক কাঠ দিয়ে । আর সীসা দিয়ে বাতাস প্রবেশের সব পথ একেবারে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। কফিনটির ওজন ২৫০ কেজি। এর আগে এতো বেশি ওজনের কফিনে করে লাশ বহন করা হয় রানীর পুত্রবধু প্রিন্সেস ডায়নার। কফিনটি বহন করতে ৮জন সুঠামদেহী মানুষের প্রয়োজন হয় । এজন্যই ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২দিন লাশটি কফিনের ভেতরে অক্ষত রাখা সম্ভব হয়েছিলো।
.png)
দ্বিতীয় এলিজাবেথের পঞ্চম পূর্বসুরী রানী ভিক্টোরিয়াকে যখন কবরস্থ করা হয় তখন তার হাতের সবগুলো আঙ্গুলেই সোনার আংটি পরিয়ে দেয়া হয়েছিলো। গলায় পরিয়ে দেয়া হয় স্বর্ণের নেকলেস এবং হাতে ব্রেসলেট । এছাড়া তিনি তার মৃত স্বামীর হাতের আদলে তৈরি একটি নকল হাতও কবরে নিয়ে যান।

কিন্তু সেই অনুপাতে এলিজাবেথ দ্বিতীয় তেমন কিছু নিয়ে যাননি । তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ৩০০ স্বর্ণালকারের মধ্যে ওয়েলশের সোনা দিয়ে তৈরি বিয়ের একটি আংটি ও একজোড়া মুক্তার কানের দুল সাথে নিয়ে গেছেন ।
সত্তর বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজকীয় ফিউনারেল সার্ভিসটি দেখলো বৃটেবাসী। রোববার সকালে ১ হাজার বছরের পুরনো গীর্জা ওয়েস্টমিনস্টার আবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫০০ শতাধিক রাস্ট্রপ্রধানসহ ২ সহ্রসাধিক অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় রানীর আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্য। এরপর সেখান থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে রানীর জন্মস্থান উইসর ক্যাসেলে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ। এসময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ কফিনে ফুল ছিটিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উইসর ক্যাসেলে পৌছার পর সেখানকার সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে একটি পারিবারিক প্রার্থণাসভা হয় । এরপর তাঁর মরদেহ কিং জর্জ-৬ মেমোরিয়েল চ্যাপেলে সমাহিত করা হয়।

গত বছর কোভিডের সময় রানীর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ মারা গেলে তাঁর লাশ একটি বিশেষ জায়গায় রাজকীয় ভল্টে রাখা হয় । রানীকে সমাহিত করার পর প্রায়ত স্বামী প্রিন্স ফিলিপের লাশ ভল্ট থেকে বের করে তার পাশে শায়িত করা হয়। রানি শায়িত হয়েছেন তাঁর মা,বাবা ও বোন প্রিন্সেস মারর্গারেটের পাশে।
অবশ্য মার্গারেটের লাশ কবরে সমাহিত করা হয়নি । কারণ তাঁর মৃত্যূর সময় সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা ছিলো না। তার ইচ্ছা অনুযায়ী লাশ জ্বালিয়ে ছাই বানিয়ে সেগুলো সেখানে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সেখানে কবরের জায়গা প্রশস্ত করেন । এখন সেখানে তার পাশে স্বামীর মরদেহটিও কবরস্থ করা হলো।
সুত্র: দ্যা রয়েল ফ্যামেলি চ্যানেল
সিলেটভিউ২৪ডটকম/তাইসির/ইআ-০৪




