সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এখন মাঠে। এরই মধ্যে এ নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। মূলত স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পুরনো একটি রিট পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি বিশ্বনাথ পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত চান তিনি।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বনাথ পৌরসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এজন্য প্রশাসনিকভাবে সীমানা নির্ধারণ করে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয় পৌর এলাকাকে।


গত ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বিশ্বনাথ পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুসারে, আগামী ৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর ১০ অক্টোবর বাছাই, ১৭ অক্টোবর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। ভোটগ্রহণ হবে ২ নভেম্বর।

তবে তফসিল ঘোষণার পর, গত বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলার উত্তর ধর্মদা গ্রামের বাসিন্দা শেখ মো. আজাদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন করেছেন।

শেখ মো. আজাদ জানান, ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের সচিব বরাবর আবেদন পাঠানো হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি সিলেটের জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বিশ্বনাথ নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, পৌরসভার প্রবেশদ্বারের গ্রামগুলো বাদ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনিসহ ধর্মদা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, খাইয়াখাইড় আতাপুর গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ নেওয়াজ চৌধুরী সেলিম এবং রজকপুর গ্রামের বাসিন্দা ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামীম আহমদ এলাকাবাসীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-৪৯৪৬/২০২১) দায়ের করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা রিট পিটিশন শুনানির জন্য রেসপন্ডেন্টগণের প্রতি রুল-নিশি জারি করেন ২০২১ সালের ১২ আগস্ট ।

আজাদ আরও জানান, ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর ওই পিটিশনটি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের ৩৫ নম্বর কোর্টের কার্যতালিকার ৪৪৮ নম্বর ক্রমিকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুনানির সম্ভাব্য তারিখ রয়েছে। এই রিট পিটিশনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি নির্বাচন স্থগিত রাখতে তিনি আবেদন জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. গোলাম সারওয়ার সিলেটভিউকে বলেন, ‘রিট পিটিশন হলেই যে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাবে, বিষয়টা এরকম না। আগামী ১৬ অক্টোবর একটা শুনানি আছে, তখন মহামান্য হাইকোর্ট কী নির্দেশনা দেন, তা আমরা দেখবো। তবে এর আগ অবধি নির্বাচনী কার্যক্রম যথারীতি চলবে।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে