মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক মাস মেয়াদের আহবায়ক কমিটি ১৭ বছরেও নিজেদের পূর্নাঙ্গ রূপ দিতে পারেনি। সম্মেলন না হওয়া বা পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীরা নিষক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়- ২০০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক নুরুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক এমদাদুর রহমান ও ফজলুল করিমের সাক্ষরে জুড়ী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়।
৫৫ সদস্যের কমিটিতে কিশোর রায় চৌধুরী মনিকে আহবায়ক এবং সিরাজুল ইসলাম, মাহবুব আলম জলিল, আব্দুল মুমিত সেবুল ও ফখরুল ইসলাম আজাদ-কে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়।
কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে দীর্ঘ ১৭ বছরেও সম্মেলন বা পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। এদীর্ঘ সময়ে ৫৫ সদস্যের মধ্যে আহবায়ক উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হন, ৩ জন উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। কয়েকজন সদস্য সক্রিয় হন যুবলীগের রাজনীতিতে। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। প্রবাসী হয়েছেন ৫ জন।
বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ও সুজানগর ইউনিয়নকে জুড়ী উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করায় ওই দুই ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন। কিন্তু মামলার কারনে দুই ইউনিয়নের কার্যক্রম বড়লেখা উপজেলার সাথে যুক্ত থাকায় ওখানকার সদস্যরা বড়লেখা উপজেলার রাজনীতিতে রয়ে যান। কমিটির বাকী সদস্যের অধিকাংশই রাজনীতিতে নিষক্রিয়। বর্তমানে ৮-১০ জন সদস্য রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, যদিও দীর্ঘ ১৭ বছরে ঘরোয়া পরিবেশে উপজেলার ছয় ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু বার বার তারিখ দিয়েও উপজেলা সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূল কর্মীরা নিষক্রিয় হয়ে পড়েছে। নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হচ্ছেনা।
এবিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন থেকে সম্মেলন না হওয়ার কারনে কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হলেও সম্মেলন হলেই সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার হবে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক কিশোর রায় চৌধুরী মনি বলেন, আমরা ৬ টি ইউনিয়ন কমিটি করেছি। উপজেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারনের জন্য জেলা নেতৃবৃন্দকে বলেছি। করোনা পরিস্থিতির কারনে কিছুটা দেরি হয়েছিল। সম্মেলন হলে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে।
জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নজমুল ইসলাম জানান, আমরা সব সময় সম্মেলন করতে প্রস্তুুত। মন্ত্রী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ পরিবর্তন মন্ত্রী এবং জুড়ী-বড়লেখার সংসদ সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন) সাথে সম্মেলনের বিষয়ে আলাপ হয়েছে। শীঘ্রই সম্মেলনের তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হবে।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সুব্রত পুরকায়স্থ বলেন, জুড়ীতে দীর্ঘদিন থেকে নতুন কমিটি হয়নি ঠিক, তবে যে কমিটি আছে তারা ইউনিয়ন কমিটি গুলো করেছে। কয়েকবার সম্মেলনের তারিখ হয়েছিল। বিগত জাতীয় নির্বাচন এবং করোনার কারনে সম্মেলন করতে দেরি হয়। শীঘ্রই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মঞ্জুরে/এসডি-১৬




