রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সব মত ও পথের সমন্বয়ে ‘রেইনবো-নেশন’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধানের সার্বিক সংস্কারে ২৭ দফা রূপরেখা তৈরি করেছে দলটি। মতামতের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাবনাটি সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের পর রাষ্ট্রের সার্বিক সংস্কারের এই রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে মূল ভিত্তি রেখেই প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক জাতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে বিএনপি। রূপরেখায় এ ধারণাকে ‘রেইনবো-নেশন’ (রংধনু জাতি) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সার্বিক সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনকল্যাণে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংবিধান, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নির্বাচন ব্যবস্থায় আসবে নানা পরিবর্তন।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আওয়ামী লীগ পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি অর্গানকে তারা ধ্বংস করেছে। একটি রাষ্ট্র যেসব অর্গানের ওপর ভিত্তি করে চলে, সেগুলোকে তারা মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে মানুষের কল্যাণে রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আমাদের এ ‘রাষ্ট্র রূপান্তরমূলক সংস্কার’ রূপরেখা। বিএনপির পক্ষ থেকে যথাসময়ে এই রূপরেখা তুলে ধরা হবে।”
জানা গেছে, দেড় দশক ক্ষমতার বাইরে থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন করলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি বিএনপি। একেক সময় একেক দাবি সামনে এনে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেও তেমন কোনো ফল আসেনি। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে সরকার পতনের ডাক দিলেও শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়নি। আবার সব দল অংশ নিলেও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন অর্থবহ হয়নি। এ অবস্থায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে সব মত ও পথের বিরোধী দলকে শামিল করার চেষ্টা করছে বিএনপি। সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গঠনে গত ২৪ মে-আগস্টে সমমনা ২২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে দলটি। সেই সংলাপে বেশ কয়েকটি দল সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ লক্ষ্যে তারা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনয়ন, গণভোট পুনঃপ্রবর্তনসহ বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিএনপি কী কী করবে—দলটির কাছে তাও জানতে চেয়েছেন কেউ কেউ।
দলগুলোর এসব প্রস্তাবনার সঙ্গে সহমত পোষণ করে বিএনপি। এরপর দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, রাজনৈতিক দল, সমমনা আইন বিশেষজ্ঞ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শুরু করে দলটি। ২০১৭ সালে খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এর আলোকে সবার মতের ভিত্তিতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্র সংস্কারের ২৭ দফা রূপরেখার খসড়া প্রণয়ন করা হয়। সর্বশেষ মতামত জানতে গত ২২ নভেম্বর গণতন্ত্র মঞ্চের সাতটি দলসহ সংলাপে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোর কাছে এই খসড়া রূপরেখাটি হস্তান্তর করা হয়েছে। সমমনাদের নতুন কোনো প্রস্তাব থাকলে যৌথ বৈঠকে সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকারের পদত্যাগ-পরবর্তী অবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের কী কী সংস্কার করা প্রয়োজন, সে-সংক্রান্ত একটি খসড়া রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দলগুলোসহ যুগপৎ আন্দোলনে সম্মত অন্য দলগুলোর কাছে সেটা দেওয়া হয়েছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে। আশা করি, ঢাকার সমাবেশ থেকে আমরা তা ঘোষণা করতে পারব।
খসড়া রূপরেখার সূচনায় বলা হয়েছে, দেশের জনগণ গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল, সে রাষ্ট্রের মালিকানা আজ তাদের হাতে নেই। বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার দেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে। এ রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হবে। দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জয়লাভের পর বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার হটানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ‘জাতীয় সরকার’ সংস্কারমূলক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করবে।
বিএনপি নেতারা জানান, আগামীতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী হলে বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ তথা ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের মাধ্যমে এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে। দলের হাইকমান্ড থেকে ইতোমধ্যে এ বিষয়টি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির প্রস্তাবিত রূপরেখার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি একজন শিক্ষক নেতা বলেন, ‘জনগণের সব প্রত্যাশাকে থোড়াই কেয়ার করে সরকার রাষ্ট্রের সব কাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ধ্বংস করেছে গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা, কেড়ে নিয়েছে জনগণের ভোটের অধিকার। সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ, বৈষম্য ও বিভাজনের রাজনীতি। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক জাতি গঠনের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হবে।’
তবে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের এই প্রস্তাবকে হাস্যকর উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের পবিত্র সংবিধান সংশোধনের চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিলেন, আর খালেদা জিয়া সেই ধ্বংসকে পূর্ণতা দিয়েছিলেন। যে দলটি রাষ্ট্রকাঠামোকে ধ্বংস করেছিল, দলীয়করণের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে দেশকে পঙ্গু করে দিয়েছিল, দমননীতিতে বাংলাদেশকে বিপর্যস্ত করেছিল—তাদের এই প্রস্তাব পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।’
বিএনপির প্রস্তাবের কিছু কিছু বিষয় হাইকোর্টের রায়ে মীমাংসিত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্র মেরামতের এই প্রস্তাবের পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা দেখতে হবে। এটা কোনো বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা যেভাবে বলছে, বিএনপিও সেভাবেই প্রস্তাব তৈরি করেছে। পাকিস্তানি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর এই রাষ্ট্র মেরামতের প্রস্তাব সফল হতে দেওয়া হবে না। যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, তাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সজাগ ও সতর্ক আছে।’
বিএনপির ২৭ দফা রূপরেখায় যা আছে>>
১. ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে সব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করে এসব রহিত/সংশোধন করা হবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে। সংবিধানে গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে।
২. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক ‘রেইনবো-নেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছতে হবে। এজন্য একটি ‘জাতীয় সমঝোতা কমিশন’ গঠন করা হবে।
৩. ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
৪. অর্থবিল, আস্থা ভোট, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং সংবিধান সংশোধনী বিল ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে।
৫. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে।
৬. ‘দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।
৭. কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান ‘নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন’ সংশোধন করা হবে।
৮. সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদান করা হবে।
৯. বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করা হবে। ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হবে। সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সংবলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হবে।
১০. ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রশাসন পুনর্গঠন করা হবে।
১১. সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা হবে।
১২. দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে।
১৩. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অমানবিক, নিষ্ঠুর, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে।
১৪. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, করপোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে।
১৫. ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন।
১৬. শ্রমজীবী মানুষ এবং চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওর-বাঁওড়, মঙ্গাপীড়িত, উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ এবং সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
১৭. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ করা হবে।
১৮. বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
১৯. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে।
২১. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
২২. যুব সমাজের ভিশন ও চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
২৩. নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্ব প্রদান এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২৪. বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্যপর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা-ক্যারিকুলামকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
২৫. ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’—এই নীতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার নিমিত্তে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করা হবে।
২৬. শ্রমিকদের মূল্যসূচক ভিত্তিক ন্যায্যমজুরি নিশ্চিত করা হবে।
২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার বন্ধ করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে




