দেয়ালিকা উন্মোচন, শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে 'বিতর্ক' পরিচালনার মধ্যে দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক বিষয়ক সংগঠন শাহজালাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সদস্যরা।

 


সংগঠনটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ রওনক জাহান মুনা জানান, শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরনে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।

 

''পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংগঠনটির নিয়মিত প্রকাশনা দেয়ালিকা 'অরিত্র' উন্মোচন করেন শাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও সংঠনটির মডারেটর অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন।

 

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন, শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান খাঁন, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

তাঁরা এসইউডিএসের হাতে লিখা এই সৃজনশীল কাজের 'ভূয়সী প্রশংসা' করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা 'অব্যাহত রাখার' আহ্বান করেন বলে জানান মুনা।

 

এরপর বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে  কর্তৃপক্ষের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে 'বারোয়ারি বিতর্ক' পরিবেশন করেন এসইউডিএসের সদস্যরা।

 

এতে অংশগ্রহণ করেছেন এসইউডিএসের বিতার্কিক মেহেদি আল মুত্তাকিন, মিফতাহুল জান্নাত জেসিকা, সাফওয়াত আদিবা হিয়া, খাদিজা সুলতানা ও নুসরাত জাহান তন্বী।

 

এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ হতে একটি দ্বৈত আবৃত্তি পরিবেশনা করেছেন বিতার্কিক মেহরাব সাদাত ও মানতাকা পৌষি।

 

মুনা জানান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিচালিত বারোয়ারি বিতর্কের বিষয় ছিল 'আমি বিজয় দেখেছি.......'।

 

"অসম্পূর্ণ এই বাক্যটিকে সম্পূর্ণতা দানের মাধ্যমে বিতার্কিকেরা নিজেদেরকে নানান চরিত্রে কল্পনা করে বিজয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেন।''

 

''কখনো হারিয়ে যাওয়া ফারদিন, কখনো ইলা মিত্র, আবার কখনো যশোর রোডের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছ- ইত্যাদি চরিত্রের মাধ্যমে তারা বিজয়কে আরো বেশি সার্বজনীন ও সার্থক করে তোলার আহবান জানিয়েছেন।''- যোগ করেন মুনা।

 

এছাড়া তিনি বলেন, "এই বিতর্কে সম্প্রতি আলোচিত বুয়েট ছাত্র ফারদিনের বিষয়টি নিয়ে বিতার্কিকরা বলেন, 'বিজয় অর্জন করা দেশে ফারদিনের মত মানুষরা নিরাপদ না। তাদের লাশ শীতলক্ষ্যার মাছদের খাবার হয়।'

 

"মৃত্যুর আসল কারণ খোঁজার বদলে একটা মানুষের মৃত্যু নিয়ে সবাই নিজের সুবিধা বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। আর সাধারণ মানুষরা নিজে সেই পরিস্থিতিতে ভোগার আগ পর্যন্ত এসব চেয়ে চেয়ে দেখে।"

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-০৮