ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে নির্মাণ করা হয়েছিল সেতু। তবে সেই সেতুতে দুর্ভোগ কমার বদলে বরং বেড়েছে। সেতু নির্মিত হলেও করা হয়নি সংযোগ সড়ক। সরকারি টাকা ব্যয়ে এলাকাবাসীর জন্য সেতুটি নির্মিত হলেও দুর্ভোগ রয়েই গেছে গ্রামবাসীর। নির্মানের বছর দুই না পেরোতেই সেতুটির এক পাশ দেবে গেছে, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন অংশে ফাটল। এাই অবস্থা হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের বদলপর ইউনিয়নের প্রত্যান্ত একটি গ্রাম সাতগাঁও উত্তর হাটি থেকে সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের যাওয়ার জন্য খালের উপর নির্মিত সেতুর।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দাবি প্রতিবছরই সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট করা হলেও বর্ষায় সেই মাটি রাখা যায় না। দেবে যাওয়া সেতু করা হয়েছে সংস্কার ও।
উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নটি কালনী-কুশিয়ারা নদীর কোল ঘেঁষা। বদলপুর বাজার থেকে একটু অদুরে সাতগাঁও উত্তর হাটি গ্রাম । এ গ্রামটিতে বসবাস ১২০ টি পরিবারের। এক সময়ে বিভক্ত গ্রামটির ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া ও গ্রামের বাসিন্দাদের যোগাযোগের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২৮ লক্ষ ৯ হাজার ৯ শত ৪৫ টাকা ব্যায়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে তখন সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি পারাপারের জন্য ভোগান্তিতে পড়ে গ্রমের ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ গ্রামবাসী।
সরজমিনে, সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় যাওয়ার এবং গ্রামবাসীর হাওড়ের ফসলে ঘরে তোলার সেতুটির সংযোগ সড়কে নাম মাত্র রয়েছে কিছু মাটি । সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণের পরের বছরেই পানির স্রোতে এক পাশ দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা গিয়েছে ফাটল। নিচ থেকে সরে গেছে মাটিও। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সংস্কারের বিষয়টিও চোখে পড়েনি সেতুর কোথাও।
গ্রামের বাসিন্দা সাগর দাস ও সুনীল দাস বলেন, সেতুটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নির্মাণ করা হলেও তাদের দুর্ভোগ কমেনি। সড়ক করে দেওয়া হয়নি সেতুটির দু'পাশে। সেতুটি কার্যকর না থাকায় হাওরের উৎপাদিত ফসল পরিবহন ও ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া আসায় দুর্ভোগে রয়েছেন গ্রামবাসী ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শ্যামল কুমার দাস জানান- সেতুটি মুলত বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত এবং গ্রামবাসীর জন্যই নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সালে বর্যায় পানির তোড়ে ব্রীজের একাংশ দেবে যায়। শুকনো মৌসুমে ব্রীজটি ব্যাবহার করা গেলেও বর্ষায় এটি কোন কাজেই আসে না।
বদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুসেনজিৎ চৌধুরী সাথে যোগযোগ করতে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে উনাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে উনার মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়িতে আছেন বলে কল কেটে দেন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলী বলেন,গত বছরও প্রায় ৮০ হাজার টাকার মাটি ফেলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছরই মাটি ফেলা হয়। বর্ষায় মাটি ভেসে যায়। পাঁচ বছর পর যদি কেউ বলে কাজে আসছে না তবে কি করার আছে। সেতুর একপাশ দেবে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সংস্কার করে মানুষ চলাচলের ব্যাবস্থা করে দেয়া হয়েছে ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / মিলাদ / ডি.আর




