শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিবিরোধী আন্দোলনের এক বছর পেরিয়েছে। এই এক বছরে ক্যাম্পাসের দৃশ্যপটে পরিবর্তন এসেছে অনেকাংশে। এখন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের এক দফা আন্দোলনের কি হল? ২৮ শিক্ষার্থীর ১৬৩ ঘণ্টার আমরণ অনশন আর রাত জেগে আন্দোলনের ফল কি ‘আশ্বাস, অপেক্ষা আর হেনস্তা’ এই ত্রয়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজেও অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। একসময় যিনি সোচ্চার ছিলেন, তিনিও এখন নির্বাক। বেশ কয়েকটি দাবির মধ্যে ভিসির পদত্যাগ প্রধানতম দাবি থাকলেও এর কোনো সুরাহা হয়নি; বরং স্বপদে বহাল রয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভিসিবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তার অভিযোগ তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র মুহাইমিনুল বাশার রাজ অভিযোগ করেন, ১৬ জানুয়ারি (২০২২) পুলিশি হামলার পর যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিতই ক্লাসে শিক্ষকদের টিজের শিক্ষার হতে হচ্ছে। ক্লাসে অহেতুক প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আন্দোলনের পর থেকে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বৈপরীত্য ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে এক দফা এক দাবি ‘স্বৈরাচারী ভিসির’ পদত্যাগ সেই স্লোাগনে বাস্তবায়ন দেখছি না।’
দাবি আদায়ে অনড় সজল, সায় দিচ্ছে না প্রশাসন :
ভিসিবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সজল কু-ু। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে যখন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন, তখন পুলিশের গুলিতে আহত হন সজল কু-ু। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে সজলের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের পাশাপাশি তাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ও তার ‘যোগ্যতা অনুসারে’ একটি চাকরি দেওয়ার দাবি ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি। উপরন্তু তার কাছ থেকে আইআইসিটি ভবনের ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনার দায়িত্বও প্রশাসন কেড়ে নিয়েছে বলে সজলের জানান। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোও মানা হয়নি।
সজল সিলেটভিউকে বলেন, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আমি আমার ৩ দফা দাবীতে টানা ১৪ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। দাবিগুলোর মধ্যে ছিলো, “বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নামে করা হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা, শিক্ষার্থীদের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরন করা; অন্যায় ভাবে কেড়ে নেয়া কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিতে হবে।”
সজল যখন প্ল্যাকার্ড হাতে তিন দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালেন; এর কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি তুলে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ ‘গুলি বর্ষণ ও হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের অভিযোগ’ এনে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীর নামে করা মামলাটি এখনো প্রত্যাহার করেনি; বরং এটি যেকোনো সময় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের উপর ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সজল। তিনি আরো জানান, বন্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও একটি এখনো বন্ধ আছে।
জাফর ইকবাল, দিপু মনির আশ্বাসের ফল নেই :
নানামুখী আশ্বাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও এখন কেউ কথা রাখছেন না বলে জানান আন্দোলনের মূখপাত্র মুহামিনুল বাশার রাজ। তিনি বলেন, সরকারের উচ্চমহল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা বিশিষ্টজনদের দেওয়া আশ্বাসের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
ড. জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হক প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পর থেকে আমি নিয়মিত জাফর স্যার ও ইয়াসমিন ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলি। কিছুদিন পরপরই। ৫-৬ মাস পর্যন্ত তারাও (উপাচার্যের পদত্যাগের ব্যাপারে) আশাবাদী ছিলেন। তাদেরও ধৈর্য ধরতে বলা হচ্ছিল। কিন্তু এখন জাফর স্যার বলছেন যে, ‘তোমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আরেকবার কথা বলো, বসো। আমি ব্যবস্থা করে দিবো।’ ওই মুহূর্তে আমরা বসতে রাজি হইনি। কারণ আমাদের আগের (শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সভা) অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। এটা আমরা স্যারকে আগেও জানিয়েছি।’
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনিসহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে’ এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে এসেছিল। কিন্তু এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে অনশনকারীরা নিজেদেরকে এক রকম প্রতারণার শিকার মনে করছে। এছাড়া সরকারি তত্বাবধানে নিয়মিতভাবে অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা স্ক্রিনিংয়ের কথা বলা হয়েছিল; তাও অল্পকিছুদিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
ঝুলে আছে তদন্ত :
১৬ জানুয়ারি পুলিশের শিক্ষার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এক বছর পার হলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা ওই দিনের ঘটনার আলামত কিংবা প্রমাণ সংগ্রহের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থী এবং প্রতক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাইনি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি স্থবির হয়ে গেছে।
সবাই নির্বাক, মুখ খুলেন না কেউ :
আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সজল বলেন, প্রশাসন সবকিছু এমন ভাবে টেকনোক্যালি করেছে, বাহির থেকেই কেউ বুঝবেই না যে এখানে কি চলছে। এছাড়া আন্দোলনে যারা সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছিল, এখন তাদেরকে চিহ্নিত করে, টার্গেট করে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দিক দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। ‘এই কাজ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছে যে, তোমরা এত আন্দোলন করেছো; কিন্তু কিছুই করতে পারোনি। এছাড়া সম্প্রতি ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি মন্তব্য করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লেখে যে, ‘তার (ভিসি) মুখে কিছুই আটকায় না।’ পরবর্তীতে ওই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারের শোকজ চিঠি তার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।’’
সজল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর রোধ করার এইটা হল একটি প্রচেষ্টা। কেউ এমন কিছু বললে তার ডিপার্টমেন্টে ফোন চলে যায়, শোকোজ চিঠি চলে যায়; এগুলোর মাঝে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর থামিয়ে দিয়ে ভয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এজন্য কেউ কিছু করতে চায় না কিংবা মুখ ফেটে বলতেও পারে না।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপে প্রশাসন কিংবা ভিসির স্বার্থ বিরোধী কোনো যৌক্তিক দাবি নিয়ে কেউ কিছু পোস্ট করলে সেখানে ছাত্রলীগের কর্মীরা বাজে মন্তব্য করে বলে সজল জানান।
আন্দোলন পরবর্তী অনুষ্ঠনগুলোতে নেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা :
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানান, আন্দোলন পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় যেসব অনুষ্ঠানে ভিসি থাকেন; সেসব অনুষ্ঠানে কেবলমাত্র শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই অংশগ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু এসব অনুষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের কোনো স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায় না । এর কারণ হিসেবে আন্দোলনকে দায়ী করছেন অনেকেই।
যে অনুষ্ঠানে ভিসি যান, সেটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অঘোষিতভাবে বয়কট করেন। আন্দোলনের পর দুই থেকে তিনটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিসি বক্তব্য রাখলেও শ্রোতারাও এর আগেই অডিটরিয়ামে ছেড়ে চলে গেছেন। তবে সেই শূন্য স্থান ভরাট করেছিল শাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, ‘আন্দোলনের পূর্বে ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগকে তেমন মূল্যায়ন করতো না। কিন্তু আন্দোলনের পর ভিসি তাদেরকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তবে এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা হলেও কেউই এ নিয়ে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চান না। তাদের ভাষ্য, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শিক্ষার্থীদেরকে পুলিশ দিয়ে ক্যাম্পাসে লাঠিপেটা ও পুলিশ নিয়ে হামলা করতে পারে; তার অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণ করি কীভাবে?
ফিরে দেখা শাবির আন্দোলন :
গত বছরের ১৩ জানয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের ছাত্রীরা ওই হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। কিন্তু প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদেরকে কোনো প্রকার আশ^স্ত করা ছাড়াই ‘অসদাচারণ করেন’ এমন অভিযোগ উঠে। ওই দিন রাতেই ছাত্রীরা প্রথমে হলে, পরবর্তীতে গভীর রাতে ভিসির বাসভবনে সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ভিসির আশ^াসে তারা হলে ফিরেন।
এর পরদিন ছাত্রীরা আবারও ভিসির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ জানাতে থাকেন। এদিন ছাত্রীদের একটি প্রতিনিধি দল ভিসির সঙ্গে আলোচনায় সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে বিক্ষোভ করেন। 'অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা নির্মূল, সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা ও অবিলম্বে ছাত্রীবান্ধব এবং দায়িত্বশীল প্রভোস্ট কমিটি নিয়োগ দিতে হবে' এই তিনদফা দাবিতে এভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তিন দিনে গড়ায়।
১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শাবি শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির নেতারা 'আন্দোলন বাঞ্চাল করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে মারপিট করে বলে অভিযোগ তুলেন ছাত্রীরা। এছাড়া ছাত্রীরা বলেছিলেন, ওই সময় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিতেই এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু তারা ছাত্রলীগকে কোনো কিছু বলেননি বরং বাঞ্চালে সহযোগিতা করেছেন।’ এর পর থেকে ছাত্রীদের আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানাতে থাকেন।
১৬ জানুয়ারি তিন দফার আন্দোলন চতুর্থ দিনে গড়ায়। দাবি পূরণ না হওয়ায় ওইদিন বিকাল ৩ টার দিকে ভিসিকে আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে ভিসিকে মুক্ত করেন। এ সময় পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে পুলিশের ছুড়া সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও লাঠিপেটায় ‘গবেষণার প্রতিষ্ঠন’ পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনা ঘটে। এরপর জরুরি এক সিন্ডিকেট সভা ডেকে সংবাদ সম্মেলনে ভিসি প্রভস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগের কথা জানান। সেই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে রাতেই এক দফার (ভিসির পদত্যাগ) আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জানান, ১৬ জানুয়ারির সংঘর্ষের জেরে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলার এজাহারে 'পুলিশকে হত্যাচেষ্টার' অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশ হামলা করার সঙ্গে সঙ্গে আবার মামলাও দিয়েছে। এটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। এছাড়া আন্দোলনে আর্থিক সহযোগিতার অভাবে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীদের উপরও মামলা করেছেন আওয়ামীলীগের অঙ্গসংতগঠনের এক নেতা।
পুলিশ শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পরের দুইদিনে হল, প্রশাসনিক ভবন ও একাডেমিক তালা সেঁটে দিয়ে এক দফা দাবি (ভিসির পদত্যাগ) নিয়ে অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে ভিসির বাসভবনের সামনে দাবি পূরণের লড়াইয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর পণ নিয়ে বসেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা গণ অনশনের ঘোষণা দেন। ফলে আরও চার শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। এরপর থেকে তদের সকলেরই ডিহাইড্রেশনসহ কয়েকজনের মারাত্মক রক্তচাপ হয়। এর মধ্যে একজনের অস্ত্রোপচার করা হলেও অনশন ভাঙতে নারাজ ছিলেন তিনি।
২৬ জানুয়ারি ভোর চারটায় শাবির সাবেক অধ্যাপক, লেখক-গবেষক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক ভোরের পাখি হয়ে উত্তপ্ত ক্যাম্পাসে আসেন। যে কিনা অনেক আশা ভরসার জায়গা ধারণ করে। একপর্যায়ে জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলনে চালিয়ে যাওয়াতে অনড় ছিলেন তারা।
আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছিলেন অনেকে।এতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা, গণফোরামের মোকাব্বির খান এমপি, বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংহতি দাবি জানিয়েছিলেন। তারাও ভিসির পদত্যাগ দাবি করছিলেন। ভিসি বিরোধী এই আন্দোলন দেশের সবচেয়ে বড় নীতিনির্ধারণী স্থল জাতীয় সংসদেও আলোচনার জন্ম দেয়।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল সিলেটে আসেন এবং আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এবং শাবি ক্যাম্পাসে এসে তারা ভিসি ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এতে ১৬ জানুয়ারির ঘটনার ভিসিকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেলেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে প্রায় এক মাসব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুরে ভিসিও দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন।
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য নিতে শাবিপ্রবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




