ছবি : মো. নুরুল ইসলাম
কাটা চুল বিক্রি করে মিলছে টাকা। মিলেছে জীবিকার উপায়। অবহেলায় ফেলে দেওয়া মাথার কাটা চুলগুলো সংগ্রহের পর বিক্রি করে একদল ফেরিওয়ালার চলছে জীবন, চলছে তাদের সংসার।
সিলেটে টাকা বা বিভিন্ন জিনিসের বিনিময়ে এসব চুল বাসাবাড়ি এবং পার্লার থেকে সংগ্রহ করেন ফেরিওয়ালারা। পরে তা বিক্রি করেন বড় ব্যবসায়ীর কাছে। প্রতি কেজি চুল প্রথম অবস্থায় বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।
গ্রাম থেকে শহরে মানুষের মাথার চুল, বিশেষ করে মেয়েদের মাথার ঝরে পড়া বা কেটে ফেলা চুল সংগ্রহ করার ঘটনা নতুন নয়। এছাড়াও বিউটি পার্লারগুলোতে কিংবা সেলুনে প্রতিনিয়ত কাটা হচ্ছে বহু মানুষের চুল। আর এসব ফেলনা চুল থেকেই আসছে টাকা। সেই চুল সংগ্রহ করে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তারপর সেটি প্রক্রিয়াজাত আর বিভিন্ন জিনিসে রূপান্তর হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। সেই চুল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবহার্য ও সৌখিন জিনিস। এসব বিক্রি হচ্ছে দেশে ও বিদেশে।
সিলেটে চুল সংগ্রহকারী ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন বিউটি পার্লার ও সেলুনে ঘুরে ঘুরে তারা মেয়েদের মাথার কাটা চুল সংগ্রহ করেন। চুলের বিনিময়ে ক্লিপ, সেফটিপিন, স্টিলের বাটি, চামচ, চুড়ি, শাড়ি, হাঁড়িপাতিল দেন তারা। পরে সে চুল ৬ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয় সিলেটের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। তারা একটি একটু বাছাই করে ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা রেল স্টেশন এলাকায় গড়ে উঠেছে এমনই বেশ কয়েকটি দোকান। যারা ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে চুল সংগ্রহ করেন। তাদেরই একজন হাফিজ উদ্দিন। তাঁর মূল বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ সিলেটে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
হাফিজ উদ্দিন সিলেটভিউ-কে জানান, তিনি ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা কেজিতে চুল ক্রয় করেন। পরে তিনি চুলগুলো পরিষ্কার ও বাছাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ঢাকার ব্যবসায়ীরা সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে এবং এসব চুল দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করেন। সারা সিলেটে এমন পাঁচ শতাধিক পাইকারি ও ছোট চুল ব্যবসায়ী রয়েছেন।
হাফিজ আরো জানান- দেশের ভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এসব চুল তার কাছ থেকে কিনে নিয়ে যান। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ীরা চুল কিনে নেন। তখন প্রতি কেজি চুল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন তিনি। বড় বড় ব্যবসায়ীরা এসব চুল প্রক্রিয়াজাত করে ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেন।
ব্যবসায়ীরা জানান- ফেলনা সেই চুল দিয়ে একসময় তৈরি করা হয় আইল্যাশ বা চোখের পাপড়ি, মাথার উইগ বা পরচুলা, মাথার ক্যাপ ও বিভিন্ন ধরনের ব্রাশ। আবার অনেক ফ্যাশন ডিজাইনারদের নতুন ড্রেস ডিজাইনের ক্ষেত্রেও এসব চুলের প্রয়োজন হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডালিম




