হবিগঞ্জ শহরে সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন করে বাড়ি ছাড়া করেছে পুত্র ও পুত্রবধু। ওই বৃদ্ধার নাম আঙ্গুরা খাতুন (৭১)। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পরও কোন প্রতিকার পাননি আঙ্গুরা। বিভিন্ন মানুষের বাসা বাড়িতে কয়েকদিন কাটানোর পর অবশেষে ওই বৃদ্ধা নারীর ঠাঁই মিলেছে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃদ্ধা নারী আঙ্গুরা খাতুনকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রাখা হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও খাবার।


আঙ্গুরা খাতুন হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার মৃত জিতু মিয়ার স্ত্রী। তার সঙ্গে সন্তানের এমন আচরণকে ‘বর্বরতা’ বলে অভিহিত করেছেন সচেতন মানুষ।

হাসপাতালের বিচানায় শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে আঙ্গুরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ছেলে মো. ফরিদ মিয়া ও তার স্ত্রী আমার ভরণপোষণ না করে আমাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। আমার শেষ সম্বল স্বামীর বসতভিটাও সে প্রতারণা করে নিজের করে নিয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি আমাকে ঘর থেকে তারা বের করে দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় মুরুব্বিয়ানদের জানালেও তারা তাতে কর্ণপাত করছে না। ফলে বাধ্য হয়ে আমাকে ভিক্ষা বৃত্তি করে দুবেলা দুমুঠো চাল জোগাড় করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন যাবত শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আমি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার অসুস্থতা দেখে স্থানীয় কিছু লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

আঙ্গুরা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে আমি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) গোলাম মর্তুজা সিলেটভিউকে বলেন, ‘ওই বৃদ্ধা নারীর অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তের পরই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার সিলেটভিউকে বলেন, ‘আঙ্গুরা খাতুন নামে ওই বৃদ্ধা নারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও খাবার দেয়া হচ্ছে। ডাক্তাররা তার খোঁজখবর রাখছেন।’

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুর রহমান সিতু জানান, বিষয়টি আমরা একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখনও খোঁজখবর নিয়ে দেখছি ওই বৃদ্ধ আঙ্গুরা খাতুনকে তার পরিবারের কাছে দেয়া যায় কি না।

প্রবীণ হিতৈষী সংঘ হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনাটি মর্মান্তিক। এ বয়সে এসে একজন মাকে এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকতে হবে তা কাম্য নয়। আমরা চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হোক।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকারিয়া/আরআই-কে