এ বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার প্যাকেজ ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা সরকারি প্যাকেজের চেয়ে কম।
আজ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টোরিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, সৌদি সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজটির নাম ‘সাধারণ প্যাকেজ’। এর আওতায় হজযাত্রীদের পবিত্র হারাম শরিফের বাইরের চত্বরের সীমানার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার দূরত্বে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। প্যাকেজ ঘোষণার পর সৌদি সরকার অতিরিক্ত কোনো ফি আরোপ করলে তা প্যাকেজমূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বেসরকারি হজ যাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হবে। প্যাকেজের টাকা ১৫ মার্চের মধ্যে এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে বা এজেন্সির অফিসে জমা দিয়ে টাকার রশিদ (মানি রিসিপ্ট) নিতে হবে।
হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত থাকতে হবে বলে বলে জানান হাব সভাপতি। বলেন, এ বছর যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি তারও হজে যেতে পারবেন। এ বিষয়ে আগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাবের যৌথ উদ্যোগে হাজীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা শহরের তিনটি স্থানসহ জেলা শহরে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অনলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের স্থান নির্ধারণ করতে পারবে।
শিডিউল ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন না করার আহ্বান জানিয়েছেন হাব সভাপতি শাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, হজযাত্রী পরিবহনে আলাদা ফ্লাইট (ডেডিকেটেড ফ্লাইট) হিসাব করেই উড়োজাহাজের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গত বছরগুলোতে এয়ারলাইনসগুলো শিডিউল ফ্লাইট হজযাত্রী পরিবহন করেছে।
কেন শিডিউল ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করা যাবে না তারও ব্যাখ্যা দেন হাব সভাপতি। বলেন, ‘এ বছর হজযাত্রীদের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন ঢাকাতেই সম্পন্ন করতে হবে। এটি নিশ্চিত করার জন্য কোনোভাবেই শিডিউল ফ্লাইট হজযাত্রী পরিবহন করা যাবে না। হজ যাত্রীদের ডেডিকেটেড ফ্লাইটে পরিবহন করতে হবে। কারণ বিমান ভাড়া সেভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা প্রতিবছর খেয়াল করি অন্তত ৩০ শতাংশ হজযাত্রীতেকে শিডিউল ফ্লাইটে পরিবহন করা হয়, এটা আমরা হতে দেব না।’
বিমান ভাড়া বেশি বা কম হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে হাব সভাপতি বলেন, ‘বিমান ভাড়া কম বা বেশি হলে হাবের কোনো লাভ ক্ষতি নেই। আমরা প্রস্তাব করেছি বিমান ভাড়া যেন কোনো টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। বিমান ভাড়ার অস্পষ্টতা দূর করা উচিত। সব ধরনের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমিটি থাকা উচিত। তারা যেটা নির্ধারণ করে সেটা মেনে নিতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ দুই লাখ ১০ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছিল। আমরা এটা বিরোরিতা করায় ১২ হাজার টাকা ভাড়া কমিয়ে, ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সরকারি প্যাকজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি এজেন্সিগুলো হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে




