সিলেটের কানাইঘাটে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
 

কানাইঘাটে সুরমা নদীর জেগে ওঠা চরে শীতকালীন সবজির হাট বসিয়ে এসব সবজি বিক্রি করছেন স্থানীয় চাষিরা। উপজেলার পূর্ব বাজারের পাশে সুরমা নদীর চরে বসে এ হাট। প্রতিদিন সকালে দুই তিন ঘণ্টার জন্য বসে ভাসমান এ বাজার। এ সময়ের মধ্যেই কয়েক লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
 


জানা যায়, স্থানীয় কৃষকরা ভাসমান এ বাজারে সবজি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। সবজি বিক্রি করে এখন পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন সবজি চাষিরা। এক সময় সবজি বিক্রি করার জন্য চাষিদের ছুটতে হতো এ-হাট থেকে ও- হাটে। এখন খুব সহজেই সবজি বিক্রি করতে পারেন তারা। প্রতিদিন সকালে সুরমা নদীর চরে বসে সবজির হাট। এ হাটটি সিলেটের সবচেয়ে বড় শীতকালীন সবজির হাট বলে অনেকেই মনে করেন।
 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাতটার পূর্বেই সবজি চাষিরা হাজির হয়ে গেছেন কানাইঘাট পূর্ব বাজারের পাশে সুরমা নদীর চরে। হালকা শীত, তাই গায়ে চাদর আর গলায় মাফ- লার পেঁচিয়ে সবজি ভর্তি সারি সারি নৌকা নিয়ে হাজির হয়েছেন এখানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে চাষিদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সবজি চাষি, ক্রেতা আর বিক্রেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয় শীতকালীন এ সবজির হাট।
 

চাষিরা মূলা, শিম, বাঁধাকপি, ওলকপি, টমেটো, লাইশাক, লালশাক, শসা, ঝিংগা, লাউ, সরিষা, মরিচসহ নানা জাতের সবজি নিয়ে আসেন উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে।

প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সুরমা নদীর চরে বসে এ হাট। দূর-দুরান্ত থেকে সবজি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় করেন এ হাটে। প্রতিদিন বিক্রি হয় লাখ লাখ টাকার সবজি। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি হয় এখান থেকে। শীতকালীন সবজির হাট একনজর দেখার জন্য দর্শনার্থীরাও ভিড় জমান।
 

কার্যত শীতকালে কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি শুকিয়ে যায়। তখন জেগে উঠে বিশাল চর। খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর বুকে বছরের এ সময়ে বসে শীতকালীন সবজির হাট।

এই সবজিগুলো উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ছাড়াও সিলেটের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তা, গোয়াইনঘাটসহ আরও কয়েকটি এলাকায় যায়।
 

সবজির হাটে কথা হয় পৌরসভার লক্ষীপুর গ্রামের সফল সবজি চাষি আব্দুল হাফিজের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এ বছর সবজি চাষ করে মোটামুটি লাভবান হয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি এই হাটে।'
 

সবজির হাটে আরও কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর সবজি বিক্রি করে তারা নায্য মূল্য পাচ্ছেন, এতে তারা মহা খুশি।

কানাইঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, 'কানাইঘাটে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ৪হাজার ২শ ৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি।'
 

হাটের ইজারাদার এখলাছ উদ্দিন বলেন, 'এই হাট থেকে প্রতিদিন শতশত টন সবজি ট্রাক, পিকআপ ও সিএনজিযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয় এখানে।'
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / এম.আর / ডি.আর/এসডি-২৭