তাহিরপুরে আধ্যাত্বিক সাধক হযরত শাহ ক্বারি নূর আলী (রঃ) এর উরস মোবারক রবিবার ভোর থেকে শুরু হয়ে সোমবার সকালে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
 

উরশে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় অর্ধলাখ নারী পুরুষ, ভক্ত তরং-শিবরামপুর শাহ ক্বারি নূর আলী (রও) মাজার প্রাঙ্গনে সমবেত হন। দূর আসা ভক্ত আশেকানরা বিভিন্ন মানত ও তবারক বিতরণ করেছেন।
 


মাজার মাঠে শিল্পী ও ভক্তরা বাউল, মুর্শিদী ভাটিয়ালী গান সহ বিভিন্ন গান পরিবেশন করে মঞ মাতিয়ে রাখেন। আবার কেউ কেউ হালকা জিকির করে মনের ভাবনা প্রকাশ করেন।

এইদিকে তরং, শিবরামপুর, নয়াবন্ধ, বেতাগড়া, শ্রীপুর, কুড়েপাড়া, সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল। উরশ উপলক্ষে মাজার মাঠে মেলা বসেছিল।

মেলায় নানা রঙ্গের খেলনা দোকান ও খাবারের দোকানে উপচেপড়া ভিড় ছিল। মাজার এলাকায় নিরাপ্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

রাত ১০ টার দিকে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান রনি ও তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন মাজার জিয়ারত এবং পরিদর্শন করেন।
 

উরস কমিটির অর্থ সম্পাদক ফেরদৌস আলম আখঞ্জী বলেন, এবার মাজারে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ জমায়েত হন। খাসি, মোরগ, নগদ অর্থ সহ বিভিন্ন মানত ভক্তরা নিয়ে এসেছেন। যা মাজার কমিটি সঠিক ভাবে বিতরণ করেছেন।
 

স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, এবারের উরস উৎসব কোন অপ্রিকর ঘটনা ঘটেনি। সুন্দর ভাবে সমপন্ন হয়েছে। উরসকে ঘিরে ভক্তদের মাঝে অন্যরকম অনুভূতি ছিল। রাস্তাসহ মাজার এলাকায় বিভিন্ন রঙ্গিন বাতি দিয়ে ঘিরে রাখা ছিল। উরসে যাতে কোন অপ্রিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য মাজার কমিটি সহ এলাকার যুবকরা সেচ্ছাসেবী হিসেবে সারা রাত মাজার প্রাঙ্গনে কাজ করেছেন।
 

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, রাতে মাজার জিয়ারত ও পরিদর্শন করেছি আমরা। উরস প্রাঙ্গনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্হা জোরদার করা হয়েছিল। মাজার সহ রাস্তাঘাটে পুলিশের নিয়মিত টহল ছিল। কোথাও কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/রাজ্জাক/এসডি-২০