খুব শিগগিরই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বৈধতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ফিটনেস ঠিক করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বৈধতা (লাইসেন্স) দেওয়ার কাজ প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ডিপিডিসির কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) প্রকাশনা ‘এমপাওয়ারিং বাংলাদেশ’ এর মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমরা বুয়েটকে তিন কোটি টাকার মতো দিয়েছিলাম। তারা হাইড্রলিক ব্রেক, ব্যাকলাইটসহ একটা স্ট্রাকচার, ডিজাইন দাঁড় করিয়েছে। চলমান অটোরিকশাগুলো কীভাবে সচল রাখা যায়, আবার নতুনগুলো কীভাবে করা যায় এসব নিয়ে কাজ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসব গাড়িতে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ব্যাপারে বিআরটিএ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তাদেরকে একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হবে- এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি দুইদিন আগে যোগাযোগ মন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে এসেছি। বলেছি, বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলতে। কারণ অটোরিকশা চালকদের এখন খুবই জুলুম হচ্ছে। তাদের কাছে এ-এসে বলে, ‘কাগজ দেখাও’, তমুক এসে বলে, ‘কাগজ দেখাও’।

অটোরিকশার সঙ্গে দেশের ২০ থেকে ৩০ লাখ পরিবারের জীবিকা জড়িত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তাদের দরকার স্বীকৃতি। আমরা হয়ত আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে এই স্বীকৃতি দিয়ে দেব। একটা বড় কনভেনশন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা ভালো আছি উল্লেখ করে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, সাউথ আফ্রিকা, বিটেনে ১০/১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। আমাদের অর্জন নিয়ে গর্ববোধ করি। পাকিস্তান ডেটথ কান্ট্রি, শেম কান্ট্রি। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল অর্ধেক। ৫২ বছর পরে আজকে পাকিস্তানের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের চেয়ে তারা ৫ বছর পিছিয়ে। আমি খয়ের খা হিসেবে নয়, তাত্ত্বিকভাবে এটা প্রমাণ করে দিতে পারি। বাংলাদেশের আর্থিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন হয়েছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুতের দাম হয় জ্বালানির উপর, জ্বালানি স্বল্প পরিমাণে উৎপাদন করি। জ্বালানির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীল। দামটা স্থিতিশীল না হলে বলা সম্ভব না। আমি মনে করি যুদ্ধ বন্ধ হলে দাম কমানো সম্ভব না। দাম একবারে বেশি পরিমাণে বাড়লে শকড হতে পারে। তাই অল্প অল্প করে বাড়ানো হয়েছে।

এফইআরবির চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ((ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমির আলী।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক রিশান নাসরুল্লাহ ।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ঢাকামেইল/শাদিআচৌ-০৩