বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত হাওর অঞ্চল গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা। এই উপজেলায় প্রায় ৯৫% ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। আর এই কৃষিজ পন্যের মধ্যে প্রধানত হচ্ছে বোরো ফসল।
 

উপজেলার কিছু হাওর ঘুরে দেখা যায়, হলুদ রঙ্গধারী ধানের গন্ধে বিমোহিত হয়েছে চারপাশ৷ নয়ন মেলিয়ে চতুর্দিকে দৃশ্যত হয় শুধু ধান আর ধান। এই ধান গোলায় তুলতে অনেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। কেউ ধান শুকানোর জায়গা ঠিক করছেন, আবার কেউ কেউ ধান মাড়াই করে ধান ও বন শুকাইতে দিচ্ছেন। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে উপজেলা জুড়ে।
 


বছরের একমাত্র সোনার ফসলের ব্যাপক ফলন হওয়া দেখে কৃষকরা বেশ আনন্দিত। কিছু কিছু কৃষক তাদের জমি থেকে ধান কাটা শুরু করছে। আবার কেউ ধান কেটে মাড়াইয়ের পর ধান গুলো শুকাতে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠছে। সূর্যের এই উত্তপ্ত তাপের মধ্যেও বাড়ির আঙ্গিনা ও খলায় কাজে মনোযোগী তারা। এই ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক পরিবার সদস্যদের সারাবছরের খাবার, পোষাক পরিচ্ছদ, চিকিৎসা, লেখাপড়া ও অর্থাৎ মৌলিক চাহিদাগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এইবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হওয়া দেখে কৃষদের মনে সীমাহীন আনন্দ। তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছে সম্পূর্ণভাবে ফসল যেন ঘরে তুলতে পারে। সৃষ্টিকর্তা সহায় থাকলে এইবারের ফসল ঘরে উঠলে বিগত করোনা এবং বন্যায় যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ঘাটতি পূরনের হবে আশাবাদী।
 

শাল্লা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সর্বমোট ২১ হাজার ৬৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ হাজার ২৫৩ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৩৮১ কোটি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হতে পারে।
 

এবিষয়ে উজান যাত্রাপুর গ্রামের সীতেশ তালুকদার নামে এক কৃষক বলেন, এবার হাওরে যে ধান হয়েছে, আমি দেখে খুব খুশি হয়েছি। ঠাকুরের আশীর্বাদ থাকলে এই ধান ঘর তুলতে পারলেইছে। আমাদের হাওরে এই ধান সববছর হয় না, এবারের মতো ধান কয়েকবছর আগে হয়েছিল। আমি কিছু জমি কাটছি অনেক ধান হয়েছে। আরও কয়েকদিন পর সব জমিন কাটতে পারব। আমরা কৃষকরা এইবারের ধান পরিপূর্ণ তুললে বিগত বছরের ঘাটতি পূরন হবে মনে হয়। বিশেষ করে সরকার যদি বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের দামের সাথে ধানের মূল্য বাড়ায় তাহলে কৃষকরা অবশ্যই লাভমান হবে। আর এই কৃষক বাঁচলে আমাদের দেশও বাঁচবে।
 

এবিষয়ে কৃষক জীবেশ বলেন, এবার বাম্পার ধান অইছে হাওরে। এখন যে লাখান দিন ভালা আছে এই লাখান আরো ১৫ দিন ভালা দিলে হাওরের সব ধান ও খের (বন) মাইনষে বাড়িত তুলত পারব৷ এবার অনেক গরম অইলেও ফলন দেইখ্যা এই গরম গায়ে লাগে না। এই ধান কাুইট্টা  শুকাইবার লাগি জায়গা বাও (রেডি) করতাছি।
 

এবিষয়ে কৃষক রুবেল বলেন, ধান খুব ভালা অইছে, কিছু জমিন কাটছি, আরও জমিন কাটার বাকী রইছে। যেগুলো কাটছি ইতা শুকাইতেই বাকী জমিন কাটতে পারমু। যে রইদ (রোদ) দেয় এইভাবে দিন দিলে অন্য বছর থাইক্যা কম সময়েই ধান কাটা শেষ অইব।


 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/সন্দীপন/এসডি-০৪