সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি সর্বশেষ গঠন হয়েছিলো ২০০৪ সালে। জামাল হোসেন আহবায়ক এবং আবুল কাশেম পল্লব ও জাকির হোসেন যুগ্ম আহবায়ক হয়েছিলেন তখন। এরপর আর কমিটি গঠন হয়নি। কমিটিহীন এই উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতারা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে চলতি বছরের ১১ মার্চ দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান শেষে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি আলোর মুখ দেখে। তবে ২০ বছরের অপেক্ষার কমিটি টিকলো না ৩ মাসও।

 


মাত্র তিন মাসের মধ্যেই চিনিকাণ্ডের বদনাম নিয়ে উপজেলা কমিটিসহ পৌর শাখাও বিলুপ্ত হয়েছে। 

 

সোমবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্যাডের বিজ্ঞপ্তিতে এই দুটি ইউনিট বিলুপ্ত হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করা হয়েছে- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখা,  সিলেট এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিয়ানীবাজার পৌর শাখা, বিয়ানীবাজার, সিলেট এর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

 

জানা গেছে, ২০০৪ সালে সর্বশেষ বিয়ানীবাজার উপজেলা কমিটি গঠন করেছিলেন তৎকালীন সভাপতি জগলু চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক ইসতিয়াক আহম চৌধুরী। এরপর ২০ বছর পর চলতি বছরের ১১ মার্চ নতুন কমিটি গঠন করে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব।

 

তৎক্ষানীন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জগলু চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ছাত্রলীগ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করা সংগঠন। আমাদের নেতাকর্মীদের এমন কোন কাজ করা ঠিক নয় যাতে এই দলের সুনাম নষ্ট হয়। একটি কমিটি ২০ বছর পর হলো কিন্তু কিছু বির্তকিত কাজেন জন্য ৩ মাসের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেল এটা দুঃখের ব্যাপার।

 

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তি ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘অপরাধ করলে বিচার হবেই,কথা হচ্ছে দুই একজনের দায়ভার সবাইকে নিতে হলো। দীর্ঘ ২০-৩০ বছর পর কমিটি হয়েছিলো বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌরসভার,সেই কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত দের উচিত ছিলো এই দায়িত্ব আরো বেশি সতর্কতার সাথে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে পালন করার,আমি আশা করবো ভবিষ্যতে সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এবং সকল ধরনের অপকর্ম থেকে নিজে এবং নিজেদের কর্মীদের বিরত রাখতে সক্ষম হবেন, এটি কিন্তু সকলের জন্যই সতর্কতা?  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি /সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ সময়োপযোগী এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায়’।

 

এরআগে চলতি বছরের ১১ মার্চ  সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

কমিটিতে বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখায় জুয়েল আহমদ শিপুকে সভাপতি ও জাহিদুল ইসলাম তাহমিদকে সাধারণ সম্পাদক করে  ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা হয়। অপরদিকে পৌর শাখায় আশরাফুল আলম সাকেলকে সভাপতি ও রেদওয়ান আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ।

 

১৯৯১ সালে আব্দুল বারি আহবায়ক ও দেলোয়ার হোসেনকে যুগ্ম আহবায়ক করে ঘোষিত কমিটি টানা তিন বছর দায়িত্ব পালন করলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। পরবর্তীদের ১৯৯৩ সালে যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন ইংল্যান্ড পাড়ি জমালে তখন আহবায়ক কমিটি পূর্ণগঠন করা হয়। পূর্ণঘটিত কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে স্থান পান আব্দুল কুদ্দুছ টিটু, ইকবাল হোসেন ও মাহমুদ হোসেন। দীর্ঘ সাত বছরে নানা জটিলতার কারণে আহবায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ পায়নি। পরে ২০০৪ সালে আহবায়ক কমিটি গঠন হয়। সেসময় জামাল হোসেন আহবায়ক এবং আবুল কাশেম পল্লব ও জাকির হোসেনকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। 

 

কেন বিলুপ্ত হলো বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর কমিটি
 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে এই দুই ইউনিট বিলুপ্ত করেছে। তবে দায়িত্বশীল সূত্র বলছে-  গত ৮ জুন বিয়ানীবাজারে সরকারি নিলাম ডাক থেকে কেনা ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকার চিনি লুটের ঘটনায় উপজেলা ও পৌর কমিটির জড়িত থাকার অভিযোগে এই কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে।

 

লুটের ঘটনায় ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হন পাঁচ ছাত্রলীগ কর্মী।

 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে চিনি লুটের মামলার আসামি ও বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সফিউল্লাহ সাগরের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক তাহমিদের মোবাইল ফোনে কথোপকথন সামাজিক মাধ্যমগুলেঅতে ভাইরাল হয়।

 

৬ মিনিট ২ সেকেন্ডের ফোনালাপতে লুট করা চিনি কীভাবে ভাগভাগি করা হয়েছে, কারা নিয়েছেন, উদ্ধার করা যাবে কীভাবে, তা বলা হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত- সিলেট গেল কয়েক বছর থেকেই ধর্ষণ, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি উচ্চারিত হচ্ছে। এছাড়াও  চোরাচালান, চাঁদাবাজি, নিজেদের মধ্যে মারামারি,  ছিনতাই ও কিশোরং গ্যাং নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ বেশি জড়িত বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ বরাবর মিথ্যা বলে দাবি  সিলেট ছাত্রলীগের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / মাহি