অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম উম্মাহর মধ্যেও আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ঈদুল ফিতরে উৎযাপন হয়েছে।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ। তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানি তাগিদ। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা শেষে আজ শনিবার (২১ মার্চ) পালিত হল পবিত্র ঈদুল ফিতর। শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখা দেওয়ার পরেই খুশিতে উঠে সবার মন।অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশী খ্যাত লাকেম্বা ওঠে সেই চিরচেনা সুর, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’।
.gif)
ভোরের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের নামাজে অংশ নেন মুসলিমরা। সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যে আলাদা জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে দেখা মেলে বহুজাতিক মুসলিমদের মিলনমেলা, সেখানে প্রিয় মানুষদের সঙ্গী করে অংশ নেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা।
রমজান মাস জুড়ে যে সংযম আর ত্যাগের শিক্ষা মানুষ অর্জন করেছে।ত্যাগের আর মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদের দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আনন্দ।তবে সব ভেদাভেদ ভুলে ঈদুল ফিতরের নামাজে এক কাতারে সামিল হন মুসলিমরা।
আমাদের দেশের মতো ঈদের নামাজের জন্য আলাদা কোনো ঈদগাহ নেই। তাই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদ, মাসাল্লা, পার্ক, কমিউনিটি হল ও স্কুলে ঈদের নামাজ আদায় করেন। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জনবসতি এলাকাগুলিতে এমনও দেখা গেছে যে, একই স্থানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঈদের জামাত আদায় করা হয়েছে।
সুন্দর রৌদ্রোজ্জ্বল শীতল সকালে দেশটিতে নামাজ আদায়ে করতে সকাল থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসেন ফয়জান-ই-মদিনা ইসলামিক সেন্টার লাকেম্বা, প্যারি পার্কে, ব্যাংকস টাউন,
এবান,লিডকম,লাকেম্বার দারুল উলুম কেন্দ্রীয় মসজিদ, রকডেল মসজিদ , লিভারপুল, মিন্টু, গ্রানভিল, গ্রিন-ভ্যালি, ম্যাসকট, মাউন্ট ডুরিথ, কাম্পবেলটাউন, গ্লেনফিল্ড, ম্যাকুরিফিল্ড, ইঙ্গেলবার্ন, সেফটন, লিউমিয়াহ, ইসলামিক সেন্টার, কনভেনশন হল ও মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা।
SYDNEY LAKEMBA DAWAT-E-ISLAMI AUSTRALIA FAIZAN-E-MADINA ISLAMIC CENTRE. সিডনি লাকেম্বা এলাকার দাওয়াত ইসলামী অস্ট্রেলিয়ার ফয়জান-ই-মদিনা ইসলামিক সেন্টারে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অন্যান্য স্থানেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার ঈদ হওয়ায় আনন্দের যেন শেষ নেই এখানে। এতে করে প্রতিটি ঈদের নামাজের জামাতে মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে।
ঈদে একে অন্যের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। প্রয়াস রাখছেন দেশের আদলে ঈদকে উপভোগ করার। ঈদের নতুন পোশাক, মেহেদির রঙে রাঙা হাত, দেশীয় সাজ ফুটিয়ে তুলছেন নারীরা। প্রিয়জনদের বাসায় দাওয়াতের পর্বেও দেখা যাচ্ছে সরগরম উপস্থিতি। আড্ডা আর রকমারি খাবারে অ্যাপায়নেও আছে দেশীয় ঢং। যদিও দেশে ঈদ উদযাপন বেশ উপভোগ্য মনে করেন বেশিরভাগ প্রবাসী। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ঈদের আবহও সেই অর্থে কম নয়।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লাখ মুসলমান বসবাস করেন। তবুও নির্বিঘ্নে ঈদ আনন্দে মেতেছেন সংখ্যালঘু মুসলিমরা। ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সবমিলিয়ে ঈদের আনন্দ এবার যেন একটু বেশি।
ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জামাত শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আনন্দ ভাগাভাগি করেন সর্বস্তরের মানুষ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইদ্রিছ/এসডি-০২




