সংগৃহিত
বৈরী আবহাওয়ায় সিলেটজুড়ে শোনা যাচ্ছে বিপর্যয়ের পদধ্বনি। অশনিসংকেতে কাঁপছে সিলেটের বিভাগের বোরো চাষিদের হৃদয়। এবার মোট আবাদের অর্ধেকের বেশি ধান এখনো পড়ে আছে ক্ষেতে। বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে শ্রমিক সংকটে হতাশার গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত বোরো চাষিরা। বুক ভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তারা আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নতির অপেক্ষায়।
বৈশাখ মানেই ঝড় তুফান কালবৈশাখী আর শিলাবৃষ্টি। তবে এ মাসটিতে দেশের হাওরাঞ্চলগুলোতে বোরো ধান উত্তোলনের একটা উৎসবও চলে আসছে যুগযুগ ধরে। তবে সেই উৎসবটা অনেকটাই প্রকৃতির খেয়াল নির্ভর। যে বছর ঝড়-বৃষ্টি তুলনামূলক কম হয়, সে বছর উৎসবের আমেজেই কৃষকের গোলায় উঠে ধান। আর তা না হলে হা-হুতাশ, দীর্ঘশ্বাস আর কষ্টের পাহাড় বুকে চেপে কোনোমতে বেঁচে থাকা। কৃষকের ঋণের বোঝা যেমন বাড়ে, তেমনি সাধারণ মানুষের পকেটেও টান পড়ে। ধান-চালের দাম বেড়ে যায় হু হু করে।
এবারের পরিস্থিতিও অনেকটা সেদিকেই যাচ্ছে। মোট আবাদের অর্ধেকের বেশি ধান এখনো মাঠে পড়ে আছে। অনেক জায়গায় ধান তলিয়ে যাওয়ার খবরও আসছে। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ফলন হয়েছে বাম্পার।
এবার সিলেট বিভাগের ৪ জেলা মিলে বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত ধান উঠেছে মাত্র ৪৬ ভাগ। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে ৪ জেলা মিলে ১৩ হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
শুধু সিলেট বিভাগই নয়, দেশের বোরো ধানের একটি বড় অংশ উৎপাদন হয় হাওরাঞ্চলের রাজধানীখ্যাত সুনামগঞ্জে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোশাররফ হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার সুনামগঞ্জের ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। বাম্পার ফলনের এই বছরে এখন পর্যন্ত কৃষকের গোলায় উঠেছে মাত্র ৪৫ ভাগ ধান। ৫৫ ভাগই এখনো মাঠে।
শুধু মাঠেই নয়, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী ৪ মে পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অশনিসংকেত, তাতে অবশিষ্ট ধানের একটি বড় অংশ পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
এমনকি, আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী কাটা ধান নষ্ট হচ্ছে, কোথাও কোথাও পঁচন ধরেছে। কারণ, পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। আর কোথাও কোথাও ধান শুকানোর মতো কোনো উপায়ও পাওয়া যাচ্ছেনা। গত কয়েকদিন ধরে সিলেট বিভাগে রোদের দেখা নেই বললেই চলে।
এদিকে আবার উজানে, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিসহ বিভিন্ন জেলায় ভারী বর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেই পানি নেমে আসবে সিলেট এবং সুনামগঞ্জের দিকে। মানে, ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল।
সুনামগঞ্জের পর সবচেয়ে বেশি বোরো চাষ হয়েছে হবিগঞ্জে। ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও ফসল উঠেছে মাত্র ২৫ ভাগ। এখনো হবিগঞ্জের হাওরগুলোতে পড়ে আছে ৭৫ ভাগ সোনালী ধান, কৃষকের স্বপ্ন।
মৌলভীবাজারে বোরো চাষ হয়েছে ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। ফসল উঠেছে ৪৮ ভাগ।
তবে এ বিভাগের সবচেয়ে বেশি ধান কৃষকের গোলায় তোলা সম্ভব হয়েছে সিলেট জেলায়। এবার এ জেলায় চাষ হয়েছে ৮৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ফসল উঠেছে ৬৬ ভাগ।
ড. মোশাররফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে




