ছবি: সংগৃহিত

ঢাকায় প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে ‘জ্বিনের বাদশা’ ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। র‌্যাবের কব্জায় ধরা পড়তেই হয়েছে। তিনি মো. জামিল হোসেন।

 

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বিষয়টি জানিয়েছে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা। তারা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই থানার আনোয়ারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ‘জ্বিনের বাদশা’কে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

মো. জামিল হোসেন ওরফে জামিল (৩১) ঢাকার উত্তরখাঁন থানার পুরারটেক এলাকার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে।

 

র‌্যাব জানায়, ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডা থানার বাসিন্দা মো. আজিজুল আলম একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালে তার বন্ধু মনির মিজান নামে এক ব্যক্তিকে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। মিজান বিদেশে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে কিনা জানতে চান। তিনি আছে বলে জানালে মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকির, মো. নাজমুল হাসান, মো. আজাদ  ও মো. কামাল আজিজুলের অফিসে যান এবং তারা প্রাচীন পিলার বিদেশে বিক্রি করে ভিকটিমের বিদেশী ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়ে আসার ও অর্ধেক টাকা তাকে দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

 

আজিজুল লোভেপড়ে তাদের ফাঁদে পা দেন। এরমধ্যে একদিন সোহেল ফকির তাকে জানান যে, জ্বিন তোমাকে ফোন করবে এবং যা বলবে তা পালন করবে।

 

কয়েকদিন পর জ্বিনের বাদশা হযরত তয়ব আহম্মেদ চিশতী জ্বিন পরিচয় দিয়ে রাতে ভিকটিমকে ফোন দিয়ে বলে যে, বাবা তুইতো বড় ভাগ্যবান, তুইতো দুনিয়ার বাদশা। আখিরাতেরও বাদশা হয়ে গেছিস। তুই একটা মূল্যবান জিনিস প্রাচীন পিলার ম্যাগনেট পাবি যার মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলার।

 

এরপর ওই জ্বিনের বাদশা বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেন। তিনি এ কথাও বলেন যে, কাউকে কিছু জানালে আর ম্যাগনেট পাওয়া যাবেনা। জ্বিন সোহেল ও নাজমুলকে তার কাছে পাঠিয়ে ৫ কোটি টাকা দিতে বলে। না দিলে তার ক্ষতি হবে বলেও জানায়।

 

পরে বিভিন্ন সময় বিবাদী সোহেল, নাজমুল, কামাল, মিজান, রাজু, জামিলসহ আরও ১০/১২ জন ভিকটিমের উত্তরার অফিসে যান এবং তাকে বিভিন্ন খাবার খাইয়ে শয়তানের নিঃশ্বাস ও কালা জাদুর মাধ্যমে তাদের হেফাজতে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তার অফিসের ভোল্টে রক্ষিত ২০০ ভরি স্বর্নের গহনা এবং নগদ ও বিভিন্ন একাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকাসহ ভিকটিমের উত্তরখান চামুরখান এলাকার ২৭.১৫ কাঠা জমি লিখিয়ে নেয়।

 

একসময় আজিজুল বুঝতে পারেন যে, বিবাদীরা বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন বা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস ও জাদু টোনার মাধ্যমে তার টাকা ও গহনা নিয়ে গেছে এবং জমিও লিখিয়ে নিয়েছে।

 

তিনি নিজে বাদী হয়ে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা (নং ১৪/২৪/৪/২৬) দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। তারই ধারাবাহিকতায় জ্বিনের বাদশা ওরফে জামিলকে তারা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

 

তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে