শুক্রবার ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিলেটের বৃহত্তম পরিবেশভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী উৎসব ‘সিলেট এনভায়রনমেন্ট সামিট ২০২৬’-এ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ ক্লাবের উদ্যোগে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট-এর সহযোগিতায় ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেটের সবচেয়ে বড় পরিবেশভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী উৎসব ‘সিলেট এনভায়রনমেন্ট সামিট ২০২৬’। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন ও তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার এক অনন্য সমন্বয় দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা, গবেষণাধর্মী চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। বিশেষ করে সামিটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘সাসটেইনেবল প্রজেক্ট ডিসপ্লে’ বিভাগে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ—উভয় অবস্থানই অর্জন করে অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশ অলিম্পিয়াড, প্রজেক্ট ডিসপ্লে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, দেয়াল পত্রিকা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য একাডেমিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়ে আয়োজিত এই সামিটে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাস্তবমুখী পরিবেশবান্ধব সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।

সামিটের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিভাগগুলোর একটি ‘সাসটেইনেবল প্রজেক্ট ডিসপ্লে’-তে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির দল ‘MU RoboCrew’। দলের সদস্য কবির আহমেদ (EEE-62) তার উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপনার মাধ্যমে বিচারকদের প্রশংসা অর্জন করেন।

একই বিভাগে রানার্স-আপ হয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আরেকটি দল ‘AgroVision’। দলটির সদস্য ছিলেন ঐতিহ্য সরকার অতিব (CSE-59), জুবায়ের রহমান চৌধুরী (CSE-65), সানদিদ হক চৌধুরী (CSE-65) এবং আমানুর রহমান আমান (CSE-65)। পরিবেশ ও কৃষিভিত্তিক টেকসই সমাধান উপস্থাপনের মাধ্যমে দলটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সামিটের এই ফ্ল্যাগশিপ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ—উভয় অবস্থানেই মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামুখী শিক্ষা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং দলগত কাজের উৎকর্ষতার প্রমাণ বহন করে।

এছাড়াও ‘AgroVision’ দলের সদস্যদের মধ্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (MUGAS)-এর সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। পরিবেশ, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তঃবিষয়ক গবেষণায় ক্লাবটির কার্যকর ভূমিকা এই সাফল্যের মাধ্যমে আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অলিম্পিয়াডসহ মোট ছয়টি পরিবেশভিত্তিক একাডেমিক প্রতিযোগিতা, পরিবেশ বিষয়ক প্রদর্শনী এবং তরুণদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে ‘সিলেট এনভায়রনমেন্ট সামিট ২০২৬’ পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই সাফল্যের জন্য মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (MUGAS)-এর পক্ষ থেকে দলগুলোর প্রতি জানানো হয় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এম. ও. রহমান চৌধুরী বলেন, “আজকের বিশ্বে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট এনভায়রনমেন্ট সামিটে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে তারা একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে