মেঘালয়ের পাহাড়গুলো মাথায় বেণী করে রাখে সাদা মেঘ দিয়ে। কোনো কোনো পাহাড় শিবশংকরের ন্যায় গলায় মেঘের সাপ পেচিয়ে দাড়িয়ে থাকে। পাহাড়ের মাথায় সাপের ফণার মত মেঘগুলো নাঁচে। আবার কিছু পাহাড় পবিত্র কালো পাথরের স্তূপ হয়ে পূণ্যবানের আকর্ষণের বস্তু হয়ে মাথা উচু করে থাকে।


উড়ন্ত মেঘ, ধবধবে মেঘ, সবুজ আর আসমানের হাজার রকম লীলাখেলায় মাথার উপর দৃশ্যের পর দৃশ্যের জন্ম হয়। এমনই এক ঐশ্বরিক দঙ্গলের নীচে সাদাপাথর জায়গাটা মোলায়েম বুক বিছিয়ে রেখেছে দর্শণার্থীদের আগমণের প্রত্যাশায়।

ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সীমান্ত নিরাপত্তার অজুহাতে একা-নিঃসঙ্গ অপেক্ষা করে। পাথরের সারি বেয়ে উজান থেকে নেমে আসে ঝিরির জল তীব্র স্রোতে। শো শো শব্দে সাগর মাতানো ঢেউ ছোটে। পাথরভাঙা মেশিনের শব্দে পাহাড়ী নদীর ঘুম ভাঙে কোথাও কোথাও। সারা রাত খা খা শূণ্যতার হাহাকার নিয়ে অপেক্ষা করে এই পবিত্র ভূমি। দিনের প্রথম ভাগ থেকে শেষ বিকেলের আলোর রেখা ধরে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে থাকে।

বৃটিশ আমলের টানানো পাহাড়ের মাথা থেকে ভোলাগঞ্জের তীর পর্যন্ত ঝুলন্ত পথের তার ও পিলারগুলো পরিত্যাক্ত পড়ে আছে এখনো খাড়া এবং মাথার উপর দিয়ে। ভারতের সীমান্ত চিহ্ন এবং কাটাতার ঘেষে শীর্ণ নদীর পথ ধরে ট্রলার গিয়ে পর্যটকদের নামিয়ে দেয় পাথরের বিছানায়।

পাথরের ডিপো নয়, এটা বরং পাথরের জন্মভূমি। সাদা সাদা পাথর নদীর পানির স্রোতে ভেসে এসে এখানে জড়ো হয়। পাথরের গায়ে ঝরণার পানি লেগে লেগে পাথর বড় হতে থাকে। পাথরের উপর পাথর। পাথরের স্তর দিয়ে সাজানো ভূমি ঠান্ডা জলে কেবল ভিজতে থাকে।

কাটাতারের ওপাশ দিয়ে ভারতের ট্রাকগুলো ছুটে যাচ্ছে। ঘন জঙ্গলের পাহাড়ী ভঙ্গুর সীমানা জুড়ে উচ-নীচু কাটাতারের বেড়া কেমন দগদগে ঘায়ের মত জেগে আছে। নদীর স্বচ্ছ জলের ভেতর দিয়ে পাথর ছড়ানো তলদেশ দেখা যায়। স্রোতে সাতার কাটছে অসংখ্য মানুষ। তীরের দিকে পাথর ধরে বসে থাকা লোকজন শরীর ভিজিয়ে রাখছে সারাক্ষণ। পাথরের বুকও হয়তো ভিজে যায় ঠান্ডা জলের স্রোতে।

সিলেট শহর থেকে মাত্র এক ঘন্টার দুরত্বে নয়নাভিরাম এ মেঘালয়মুখ অজস্র সমাদরের ডালা সাজিয়ে রেখেছে পরতে পরতে। মন যার অশান্ত, হৃদয়ঘটিত ভঙ্গুর আবেগে কেঁপে কেঁপে উঠছে যে, এখানে এসে ভিজিয়ে শরীর শান্ত হয়ে যাক সে কোনো এক সময়।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/তোফায়েল/এসডি-১১