ছবি: প্রতিকী ছবি।

ইইউ-এর অভিবাসন কমিশনার বলেছেন, ‘তল্লাশি কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এটাই সঠিক সময়।’ কিন্তু সীমান্তে তল্লাশি কার্যক্রম বাতিল করতে জার্মানি নারাজ বলেই জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

 

বৃহস্পতিবার, জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট ইউরোপীয় কমিশনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন৷

 

কমিশন বলেছে, অভিবাসন নীতির ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে এখন এই তল্লাশিগুলোর প্রয়োজন নেই৷ ইইউ অভিবাসন নীতির সংস্কারের মাধ্যমে ব্লকের সীমান্ত পেরোনো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার জন্য পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিনিং পদ্ধতি শক্তিশালী করা এবং সবচেয়ে বেশি অভিবাসী গ্রহণ করেছে এমন দেশগুলোকে আরও সমর্থন দেওয়া। এই ব্যবস্থাগুলো আগামী সপ্তাহ থেকে চালু হওয়ার কথা।

 

বর্তমানে, ইইউ-এর ১০টি দেশ অভ্যন্তরীণ সীমান্তে তল্লাশি চালু রেখেছে, এবং তাদের মধ্যে সাতটি দেশ কমিশনকে কারণ হিসেবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কথা জানিয়েছে৷ এই নিয়ন্ত্রণগুলো অস্থায়ী হওয়ার কথা, কিন্তু কয়েকটি দেশ কয়েক বছর ধরে এগুলো চালু রেখেছে।

 

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে, কমিশন অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, ইইউ-ভুক্ত নয় এমন নরওয়ে, স্লোভেনিয়া এবং সুইডেনকে ধীরে ধীরে তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানায়। দশম দেশটি হলো পোল্যান্ড, যাকে কমিশন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেনি।

 

কমিশনার মাগনুস ব্রুনার গত বৃহস্পতিবার লুক্সেমবুর্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠকের আগে বলেন, ‘‘[অনিয়মিত অভিবাসন] সংখ্যা কমে যাচ্ছে... আমরা ঠিক পথে আছি। সংস্কারগুলো সম্পন্ন হয়েছে। বহির্সীমান্তগুলো আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত হয়েছে। প্রত্যাবর্তন নিয়মাবলী চূড়ান্ত হয়েছে... ধীরে ধীরে এই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণগুলো তুলে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়।’’ 

ভিসা-মুক্ত শেঙেন এলাকাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেছেন ব্রুনার।

 

কিন্তু ডোব্রিন্ডট বলেন, জার্মানির সীমান্ত তল্লাশিগুলো ‘কার্যকর’ এবং ‘প্রয়োজনীয়’।

 

তার কথায়, ব্লকের বহির্সীমান্ত সুরক্ষা ‘উল্লেখযোগ্যরকমভাবে উন্নত’ করতে হবে। তিনি বলেন, যেসব দেশে অভিবাসীরা প্রথমে পৌঁছান, তাদের ব্লকের অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে হবে। বিনিময়ে, সর্বাধিক অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোর সমর্থন পাঠানোর নতুন ব্যবস্থাটি দ্রুত চালু করতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘সবকিছু একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এগুলো একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলে। আমরা গত কয়েক মাসে দেখেছি আমাদের পদক্ষেপগুলো অনিয়মিত অভিবাসন রোধ করতে কতটা কার্যকর।’

 

তার কথায়, এগুলো জার্মানির প্রতি ‘আকর্ষণ’ কমিয়েছে এবং পাচাররোধেও সাহায্য করেছে।

 

গত বছর, লুক্সেমবুর্গ জার্মানির সঙ্গে তাদের যৌথ সীমান্তে তল্লাশির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল। গত মাসে এই নিয়ন্ত্রণগুলো কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল কিন্তু সম্পূর্ণভাবে তল্লাশি কার্যকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়নি।

 

লুক্সেমবুর্গের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিও গ্লোডেন কমিশনের সীমান্ত তল্লাশি তুলে নেওয়ার আহ্বানকে স্বাগত জানান। যদিও তিনি বলেন, এই আদেশ ‘নয় মাস দেরিতে’ এসেছে। দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ কাজ করার কোনো স্পষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া