ছবি: সিলেট ভিউ।
সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি অপরাধ রাজ্য রয়েছে। এগুলোর রাজা বিভিন্ন দাগী অপরাধী। নগরীর বন্দর বাজার, ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলার সুরমাপারের কয়েকটি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, চুরি-ছিনতাই এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নিরাপদ স্থান হিসাবে কুখ্যাত। পাশাশাশি এগুলো দাগী অপরাধীদের জন্য নিরাপদ চারণ ভূমিও।
এই অপরাধ রাজ্যগুলোর একটি দক্ষিণ সুরমার ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন ভার্থখলা এলাকার সুরমা নদীর পারের সুইপার কলোনি। অপরাধীদের এই স্বর্গরাজ্য দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তছনছ করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। আটক করা হয়েছে অন্তত ২০ জনকে। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও সরঞ্জাম।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা যায়, মহানগরীর বন্দর বাজার, ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, চুরি-ছিনতাই এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কুখ্যাত। এসব অপরাধ দমনে এবার কঠোর অ্যাকশন শুরু করেছে প্রশাসন। শুরু করেছে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান। বৃহস্পতিবারের অভিযানে প্রায় ২শ’ থেকে ২৫০ জন পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও সন্দেহভাজন স্থানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং মাদক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। অভিযান চলাকালে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযান ও আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অভিযান শেষ হলেও এলাকায় এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তবে পুরো এলাকা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, হযরত শাহজালালের (রহ.) পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত সিলেটে মাদক কারবারিদের কোনো আস্তানা গড়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে মহানগরী থেকে মাদক ও অপরাধের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া




