ছবি: সংগৃহিত

প্রতিটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশে দেখা যায় প্রিয় দলের সমর্থনে সমর্থকদের অদ্ভুত উন্মাদনা। একইসঙ্গে, নিজ দলের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শনে নিউটনিয়ান থার্ড ল' থেকে শুরু করে সব 'লজিক-স্ট্যাটিসটিকস-ফ্যাক্ট' উল্টে-পাল্টে দেন সমর্থকরা। এমনই এক পাগলাটে ফ্যানের সন্ধান পাওয়া গেলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা চান্দপুর গ্রামে।

 

বাড়ি-দেয়াল-গেট-সীমানাপ্রাচীর: সব জায়গাতে দেখা মিলবে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ রঙের ছোঁয়া। দেয়ালে আকাঁ গ্রাফিতি'তে স্থান পেয়েছে সেলেসাও কিংবদন্তি রোলানদো-কাকা-রবার্তো কার্লোস-নেইমারের ছবি। সাথে আছে ব্রাজিল আর বাংলাদেশের পতাকাও। বাড়ির সামনে বড় অক্ষরে লেখা 'ব্রাজিল'।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা চান্দপুর গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া (৩৫) নিজের বাড়িকে এভাবে-ই সাজিয়েছেন।

 

প্রিয় দলের জন্য, এমন সব আয়োজন দেখে বলতে বাকি থাকেনা যে তিনি ব্রাজিলের কড়া ভক্ত। রুবেল মিয়ার এমন ব্যতিক্রমী এই বাড়ি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দূরদূরান্তের মানুষ।

 

রুবেল মিয়া মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। একসময় প্রায় আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন।

 

তিন বছর সিঙ্গাপুরে, এক বছর মালয়েশিয়ায়, এক বছর জর্জিয়ায় থাকার পাশাপাশি ভারত ও নেপালেও কিছু সময় ছিলেন। বর্তমানে তিনি একজন ব্যবসায়ী।

 

ব্রাজিলের এই অদ্ভুত ফ্যানের ব্যতিক্রমধর্মী এই বাড়ি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। শুধু ব্রাজিল সমর্থকেরাই নন, অন্য দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও বাড়িটির সৌন্দর্য ও নান্দনিকতার প্রশংসা করছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ফুটবলপ্রেম ও সৃজনশীলতার মিশেলে তৈরি এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাড়িটি এখন আখাউড়ার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এর ফলে এলাকাটির পরিচিতিও বেড়েছে।

 

ব্রাজিলের জন্য এমন পাগলাটে সমর্থনের পেছনে যুক্তি দিতে গিয়ে রুবেল মিয়া যমুনা টেলিভিশনকে বলেন, ‘ফুটবল খেলা বুঝতে শেখার পর থেকেই আমি ব্রাজিল দলের সমর্থক। দলটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই বাড়ির ভবন ও সীমানা দেয়াল ব্রাজিলের পতাকার আদলে রং করিয়েছি। নিজের দেশের লাল-সবুজের পতাকাও এঁকেছি। পাশাপাশি প্রিয় খেলোয়াড় রোনালদো, রোনালদিনিও, রবার্তো কার্লোস, কাকা, নেইমারসহ অনেকের ছবি আঁকিয়েছি।’

 

বাড়ি রঙ করার প্রসঙ্গে রুবেল মিয়া বলেন, বাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর রং করতে ১৮ দিন সময় লেগেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাকি কাজ শেষ করতে আরও পাঁচ থেকে ছয় দিন লাগবে। দুজন চিত্রকর ও চারজন কারিগর প্রতিদিন কাজ করছেন।

 

প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ব্রাজিল ভক্তরা ভীড় করছেন বাড়িটি দেখতে। কেউ কেউ আবার ভিডিও করে নিচ্ছেন; কেউ আবার তুলছেন সেলফি।

 

স্থানীয়রা জানান, শুধু ব্রাজিল সমথর্করাই নয়, অন্যদলের সমথর্করাও বাড়িটি পছন্দ করে। এবার ব্রাজিল-ই হবে চ্যাম্পিয়ন, এমনটাই আশা তাদের।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইকে