ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স ও এআই।

সিলেটে থামছে না হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর মিছিল। প্রায় প্রতিদিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যাচ্ছে শিশু। বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও। গেল দুইদিনে সিলেটে মারা গেছেন ৫ শিশু। আর বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আড়াইশতাধিক শিশু।

 

গত প্রায় আড়াইমাস ধরে হামের ‘হটস্পট’ হয়ে আছে সিলেট। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোর ‘হাম কর্ণারে’ বাড়ানো হয়েছে শয্যা। হামের সংক্রমণ কমার জন্য টিকার কার্যকারিতার দিকে তাকিয়ে আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ২০ মে হামের টিকা দেওয়া শেষ হয়েছে। একমাস পর এর কার্যকারিতার সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী সপ্তাহ থেকে সিলেটে হামের সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

 

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত ৬ এপ্রিল। ওইদিন বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১০১ জন। হামের চিকিৎসার জন্য একশ’ শয্যার সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ‘ডেডিকেটেড’ করা হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয় হামের চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এরপরও রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় এক শয্যায় দুই শিশুকে রেখেও চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত দুইদিনে ওসমানী ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ শিশু মারা গেছেন। এনিয়ে সিলেট বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৪ জনে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭১ জন। আর বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৬৮ জন শিশু। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৫ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

সিলেট বিভাগে হামের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অনেক দিন ধরে সিলেটে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। কেন বাড়ছে তার নির্দিষ্ট একক কোন কারণ নেই। আবার পরিস্থিতি কবে সংক্রমণ কমে আসতে পারে সেটাও বলা যাচ্ছে না। তবে টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার একমাস অতিবাহিত হলে টিকাগ্রহণকারী শিশুদের শরীরে ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি হওয়ার কথা। তখন সংক্রমণ কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

 

তিনি জানান, ২০ মে টিকা দেওয়া শেষ হয়েছে। সে হিসেবে আগামী সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ কমে আসার কথা। এরপরও সংক্রমণ না কমলে বা টিকাগ্রহণকারী শিশুদের ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি না হলে সেটি গবেষণার বিষয়। তিনি বলেন, যেসব লোক টিকা নিয়ে সবসময় নেতিবাচক মনোভাব পোষন করে তাদের পরিবারের শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত হওয়ার পর তারা টিকার গুরুত্ব বুঝতে পারছে।

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ